৮ ঘণ্টা পর নারায়ণগঞ্জে বাস চলাচল স্বাভাবিক

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

৮ ঘণ্টা পর নারায়ণগঞ্জে বাস চলাচল স্বাভাবিক

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ৩:১৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০১৯

৮ ঘণ্টা পর নারায়ণগঞ্জে বাস চলাচল স্বাভাবিক

বুধবার সকাল থেকে টানা আট ঘণ্টা জনদুর্ভোগের পর দুপুর দুইটায় অবরোধ তুলে নিয়েছে নারায়নগঞ্জে পরিবহন শ্রমিকরা।এরপর থেকেই রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

দুপুর থেকেই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে শ্রমিকেরা সরে যেতে শুরু করলে শুরু হয় ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কসহ যান চলাচল।এছাড়া নারায়ণগঞ্জ শহর থেকেও শুরু হয় যান চলাচল। তবে টানা ৮ ঘণ্টা অবরোধের কারণে হাজার হাজার মানুষকে চরম ভোগান্তি আর দুর্ভোগের শিকার হতে হয়।

সাইনবোর্ডে অবরোধকারীরা জানান, তারা তাদের দাবির প্রতি অবিচল রয়েছে। কিন্তু বুধবার মন্ত্রীদের সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের বৈঠকের কারণে আপাতত সাময়িকভাবে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। দাবি না মানলে প্রয়োজনে আবারও অবরোধ করা হবে।

এর আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী সকল পরিবহন বুধবার সকাল থেকে বন্ধ ছিল। এতে করে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ যাত্রীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে।বাস না পেয়ে অনেকেই পায়ে হেটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সাইনবোর্ড এলাকায় এলোপাতাড়ি যানবাহন রেখে অবরোধ করায় ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানচলাচল পুরোপুরি বন্ধ ছিল।

জানা গেছে, নতুন সড়ক পরিবহন আইন স্থগিত রাখাসহ নয় দফা দাবিতে বুধবার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ডাকে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। ওই কর্মবিরতিতে সংহতি প্রকাশ করে সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও সকল ধরনের গণপরিবহন বন্ধ ছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৬টা থেকেই পরিবহন শ্রমিকেরা সাইনবোর্ড এলাকায় দাবি আদায়ে বিক্ষোভ শুরু করে। তখন ব্যক্তিমালিকাধীনসহ বেসরকারি গাড়ি চলাচল করছিল। পরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সাইনবোর্ড এলাকায় এলোপাতাড়ি যানবাহন ফেলে রেখে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ঢাকামুখী রাস্তা বন্ধ করে দেয় তারা।

সরেজমিনে চাষাঢ়া এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাত্রীরা বাস টার্মিনালে যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করেন। কোন বাস না থাকায় অনেকেই বাসায় ফিরে যান। জরুরি প্রয়োজনে অনেকেই হেটে ও রিকশা করে চলাচল করতে দেখা যায়।

পরিবহন শ্রমিকরা বলেন, ‘আমরা গলায় ফাঁসি নিয়ে পরিবহন চলাবো না। কারণ পরিবহন চালানো একটি সেবা। আমরা মানুষকে সেবা দেই। আর কেউ ইচ্ছা করে দুর্ঘটনা ঘটায় না। তারপরও কঠোর শাস্তির বিধান করেছে।আবার লাইসেন্স, গাড়ির কাগজের জন্য হাজারগুন জরিমানা ধার্য করেছে।এগুলো কিভাবে পরিশোধ করবো। ২৫ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হলে গাড়িসহ সংসারের জিনিসপত্র বিক্রি করতে হবে।তাই এভাবে গাড়ি চলানো সম্ভব না বলেও জানান শ্রমিক নেতারা।

এমকে

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও