টাঙ্গাইলে পিইসি পরীক্ষা দিচ্ছে পাঁচ প্রতিবন্ধী

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

টাঙ্গাইলে পিইসি পরীক্ষা দিচ্ছে পাঁচ প্রতিবন্ধী

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ৯:৩৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০১৯

টাঙ্গাইলে পিইসি পরীক্ষা দিচ্ছে পাঁচ প্রতিবন্ধী

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে এবারের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় ধনবাড়ী খন্দকার নজরুল ইসলাম অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের পাঁচ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এরা ধনবাড়ী সরকারি নওয়াব ইনস্টিটিউশন কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে।

পরীক্ষায় অংশ নেয়া পাঁচ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর সবাই শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। এরা হলো শাহরিয়ার আহমেদ জয়, মিজানুর রহমান, শহিদ আলী, তন্নী খাতুন ও বিনা আক্তার।

শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ জয় বলে, ‘আমি পড়ালেখা শিখে উচ্চতর ডিগ্রি নিতে চাই। আমার পরিবার ও সমাজের কল্যাণে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চাই। কেউ যেন আমাকে প্রতিবন্ধী ভেবে অবজ্ঞা না করে।’

তন্নী খাতুন ও বিনা আক্তারসহ অন্যরাও সমাজে অবহেলিত না থেকে পড়ালেখা করে দেশের সুনাগরিক হতে চায়।

ধনবাড়ী খন্দকার নজরুল ইসলাম অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আঞ্জুয়ারা খাতুন বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে এ বিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়াশুনা করেছে। তারা ভালো ফলাফল করবে বলে আমি আশাবাদী।’

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি খন্দকার মোস্তাফিজুল ইসলাম জীবন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘তাদের প্রতি যদি সমাজের সবাই সহানুভূতিশীল আচারণ করে তাহলে তারা পড়ালেখা শিখে মানুষের মতো মানুষ হতে পারবে। তাদেরকে কেউ প্রতিবন্ধী বলে অবজ্ঞা করতে পারবে না। এছাড়াও অভিভাবকদের ভালো চিকিৎসাসেবা দেয়ার ব্যাপারে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। অনেকেই আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে চিকিৎসাসেবা নিতে পারছে না। বিদ্যালয় থেকে আর্থিক ও চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়।’

ধনবাড়ী সরকারি নওয়াব ইনস্টিটিউশন পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামিমা জাহান শারমিন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘একই বিদ্যালয়ের পাঁচ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী পিইসি পরীক্ষা দিচ্ছে। তারা প্রত্যেকেই ভালোভাবে পাস করবে বলে আমি আশাবাদী। তাদেরকে নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত সময়সহ অন্যান্য প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে ধনবাড়ী উপজলা নির্বাহী অফিসার আরিফা সিদ্দকা বলেন, ‘উপজেলার একটি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় থেকে এবার পাঁচ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী পিইসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে জেনে আমি খুবই আনন্দিত। বিষয়টি আমাকেসহ কেন্দ্রের অন্যদেরকেও হতবাক করেছে। তারা লেখাপড়া শিখে স্বাবলম্বী হবে এমনটাই আশা করছি।’

এইচআর

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও