জামালপুরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ ও স্বামীকে হত্যার অভিযোগ

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

জামালপুরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ ও স্বামীকে হত্যার অভিযোগ

জামালপুর প্রতিনিধি ২:১৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০১৯

জামালপুরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ ও স্বামীকে হত্যার অভিযোগ

জামালপুরে এক গৃহবধূকে রাতভর গণধর্ষণ ও পরে গাছের সাথে হাত-পা বেঁধে পাশবিক নির্যাতন।এরপর গৃহবধুর স্বামীকে ডেকে মারধর করে তাকে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে।

জামালপুর সদর উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামে শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) রাতে এ ঘটনা ঘটেছে।

পরদিন শনিবার সকালে ধর্ষিতার স্বামীর লাশ উদ্ধার ও ধর্ষকের বাড়ি থেকে গাছে বেঁধে রাখা অবস্থায় ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ।

স্বামীর লাশের সাথে ধর্ষিতাকে থানায় নিয়ে গেলেও ময়নাতদন্তের লাশের সাথে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয় পুলিশ।

পুলিশের কাছে ঘটনা খুলে বললেও গণধর্ষণ ও হত্যা মামলা নেয়নি পুলিশ এমন অভিযোগ ধর্ষিত গৃহবধূর। বরং এলাকার প্রভাবশালী চেয়ারম্যান ও পুলিশ হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যার প্রচার চালিয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ করেছে ধর্ষিতা ও তার পরিবার।

তারপরও ধর্ষকরা সেখানেই থেমে থাকেনি। স্থানীয় প্রভাবশালী চেয়ারম্যান আজিজুল হক ও ধর্ষকরা তাকে ও তার পরিবারকে চারদিন অবরুদ্ধ করে রাখে বাড়িতে।

অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে সোমবার রাতে পালিয়ে এসে জামালপুর প্রেসক্লাবে আশ্রয় নেয়।সেখান থেকে রাত সাড়ে ১০টায় ওই গৃহবধূকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার হাসানুল বারী শিশির জানিয়েছেন, গোপনাঙ্গ থেকে রক্ত ঝরছে ও ফুলা জখম থাকায় প্রাথমিক ধরনা গৃহবধু গণধর্ষনের শিকার হয়েছে। মেডিকেল পরীক্ষার রির্পোট আসলে নিশ্চিত করে বলা যাবে আসলে কি ঘটেছিল।

দায়িত্বরত এসআই গুলজার হোসেনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভিকটিম গণধর্ষন ও নির্যাতনের ঘটনা আমাকে জানিয়েছে, আমি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। তারা ব্যবস্থা না নিলে আমার কি করার আছে।

জামালপুর সদর থানার ওসি (তদন্ত) রাশেদুল হাসানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দুই বউয়ের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে খলিলুর রহমান আত্মহত্যা করেছে।

গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূ হাসপাতালের বেডে কান্নারত কন্ঠে বলেন, গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ঘর থেকে বাইরে বের হলে প্রতিবেশী ছানোয়ার, শাওন ও রফিজ উদ্দিন তাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে ছানোয়ারের বাড়ির পেছনে একটি জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে এবং গাছের সাথে বেঁধে মারধর করে।এরপর ছানোয়ারের বাড়িতে আটকে রেখে তার স্বামীকে (খলিলুর রহমান) ডেকে এনে মারধর করে হত্যা করে লাশ বাড়ির পাশে একটি কাঁঠাল গাছে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। পরদিন সকালে পুলিশ গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায় এবং একটি অপমৃত্যু মামলা করে।

তবে হত্যাকাণ্ড এবং ধর্ষণের বিষয়ে পুলিশ কোন মামলা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন নির্যাতিতা ওই গৃহবধূ।

প্রেসক্লাবের সভাপতি হাফিজ রায়হানের মোবাইল ফোনে কথা হলে বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যান আজিজুল হক বলেন, আমার ছেলেদের নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হলে কাউকে ছাড়বোনা। ওই গৃহবধু খারাপ ও নষ্টা বলেও দাবি করেন তিনি।

গৃহবধু গণধর্ষন ও গাছের সাথে বেঁধে পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা ফাঁস হয়ে তুলপার হলে গৃহবধু বাদী হয়ে সোমবার রাতে একটি মামলা নিতে বাধ্য হয় পুলিশ।

মামলা দায়েরের পর রাতেই সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালেমুজ্জামানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ধর্ষক শাওনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেমুজ্জামান জানান, আমার কাছে আগে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। পুলিশের দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ সঠিক নয়। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে।একজনকে রাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে।

এসজে/এমকে

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও