ফরিদপুরে বিষ খাইয়ে সৎ ছেলেকে হত্যার অভিযোগ

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ফরিদপুরে বিষ খাইয়ে সৎ ছেলেকে হত্যার অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি ৩:৪৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৬, ২০১৯

ফরিদপুরে বিষ খাইয়ে সৎ ছেলেকে হত্যার অভিযোগ

ফরিদপুরের সদরপুরে সৎ মায়ের বিরুদ্ধে আট বছরের এক শিশুকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সদরপুর উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের রমজান মোল্যার ডাঙ্গী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশুটির নাম তানিম(৮)। সে ওই এলাকার ইব্রাহীম মোল্যা ওরফে রেজাউলের ছেলে।

খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ইব্রাহীম মোল্যা ওরফে রেজাউল বাদী হয়ে স্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ সৎ মা স্বপ্না বেগম (২৫) কে আটক করেছে।

পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সকালে শরবতের সাথে বিষ মিশিয়ে তানিমকে খাওয়ায় সৎ মা। এর পরই তানিম অসুস্থ হয়ে পরে। শিশুটির দাদা আক্কাছ মোল্যা তাকে প্রথমে চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বাড়িতে আসার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে সদরপুর হাসপাতালে নেওয়া হলে সদরপুর হাসপাতাল থেকে ফরিদপুর শিশু হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখান থেকে নেওয়া হয় ঢাকা শিশু হাসপাতালে। ঢাকা শিশু হাসপাতাল শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করলে সেখানে নেওয়ার পথেই মৃত্যু তানিমের।

জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে প্রথম স্ত্রীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে ইব্রাহীম মোল্যার। প্রথম স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নেওয়া সন্তান তানিমকে রেখে দেয় বাবা। এর কিছুদিন পরে একই উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের পবনখার ডাঙ্গী গ্রামের সরোফত উল্ল্যাহ খানের মেয়ে স্বপ্না বেগমকে বিয়ে করে ইব্রাহীম। স্বপ্না গর্ভেও এক কন্যা শিশুর জন্ম হয়।

তানিমের বাবা ইব্রাহিম জানান, বিয়ের পর থেকেই প্রথম পক্ষের ছেলে তানিমকে সহ্য করতে পারতো না স্বপ্না। এরই জের ধেরে সবার অজান্তে গত মঙ্গলবার দুপুরের পর শিশুটিকে শরবতের সাথে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে আমার ছেলেকে হত্যা করে।

খবর পেয়ে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

সদরপুর থানার ইন্সপেক্টর (ওসি-তদন্ত) আবুল খায়ের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত সৎ মা স্বপ্না বেগমকে আটক করা হয়েছে।

এআরই

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও