মধ্যবিত্তরা করের আওতায় এলে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে: অর্থমন্ত্রী

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

মধ্যবিত্তরা করের আওতায় এলে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে: অর্থমন্ত্রী

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ৯:৩৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০১৯

মধ্যবিত্তরা করের আওতায় এলে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘কর প্রদানকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। এখন যারা কর দেন তারা তুলনামূলক বেশি রেট দিচ্ছেন। দেশের চার কোটি মানুষ আছে মধ্যবিত্ত, যারা কর দেন না। তাদের সবাইকে করের আওতায় আনা গেলে রেটটা অনেক কমে যাবে।’

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের কুমুদিনী কমপ্লেক্সে কুমুদিনী কল্যাণ ট্রাস্ট কর্তৃক আয়োজিত দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার ১২৩তম জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষে অনুষ্ঠানে যোগদানের আগে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে পেঁয়াজ আমদানির ওপর সরকারকে কোনো আমদানি শুল্ক দিতে হয় না। পেঁয়াজ আমদানির বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অর্থসহ যেকোনো ধরনের সহায়তা চাইলে অর্থমন্ত্রণালয় তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। পেঁয়াজের বিষয়টি যদিও অর্থমন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়, এটি  বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিষয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাজ হলো অর্থ দেয়া।’

মন্ত্রী জানান, ‘পেঁয়াজের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যা চাইবে সব দেয়া হবে। আমার জানা মতে পেঁয়াজ নিয়ে সংকট তৈরি হওয়ার সাথে সাথে পেঁয়াজের ওপর ইমপোর্ট ডিউটিও বাতিল করা হয়েছে। তাই পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রেও কোনো বাধা থাকার কথা নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘গতকাল প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে পেঁয়াজের সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবে।’

দুর্নীতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, ‘যে অর্থনীতিতে দুর্নীতি থাকে সেই অর্থনীতি টেকসই হতে পারে না। আমরা টেকসই উন্নয়ন করবো। সকল ধরনের দুর্নীতিকে বাদ দিয়ে সামনে এগিয়ে যাবো। দুর্নীতির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত জিরো টলারেন্স বাস্তবায়ন করা হবে। আমারা চিহ্নিত অপরাধগুলোকে নির্মূল করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি।’ 

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘একেবারে শূন্য হাতে শুরু করে জীবন সংগ্রামে সফলতা লাভ করা অত্যন্ত কঠিন মনে হলেও কারো জীবনে তা অর্জিত হয়েছে কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় আর অদম্য সাহসিকতা ও ধৈর্য নিয়ে সামনের দিকে পথ চলে। যে মানুষটি অর্থের অভাবে মায়ের চিকিৎসা করাতে পারলেন না, সেই মানুষটির প্রতিষ্ঠিত কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে এখন প্রতিদিন প্রায় দুই সহস্রাধিক রোগীকে সহজলভ্য চিকিৎসা দান করা হচ্ছে। যে মানুষটি পাহাড়সমান দারিদ্র্যতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করলেন, সেই মানুষটিই এশিয়া মহাদেশের অন্যতম একজন দানবীর ও মানবসেবক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করলেন। একটি শিক্ষাকেন্দ্রের অভাবে যেখানে নারীশিক্ষা ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন, এই মানুষটির অবদানেই আজ হাজারো নারী সুশিক্ষা গ্রহণ করে আমাদের নারীসমাজ আলোকিত করছে। যার প্রতিষ্ঠিত ভারতশ্বরী হোমস, কুমুদিনী নার্সিং স্কুল, কুমুদিনী কলেজের মতো নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নারীশিক্ষার অগ্রদূত হিসাবে আজও আপন মহিমায় দাঁড়িয়ে আছে। আর সেই মানুষটি হলেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সদরের মির্জাপুর গ্রামের দানবীর রায় বাহাদুর রণদা প্রসাদ সাহা।

পরে সন্ধ্যায় মন্ত্রী কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের মনোজ্ঞ ডিসপ্লে উপভোগে করেন। এরপর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির রাখেন অর্থমন্ত্রী।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের পরিচালক (শিক্ষা) পিন্সিপাল ও ভাষাসৈনিক প্রতিভা মুৎসুদ্দি। সভাপতিত্ব করেন সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজিব প্রসাদ সাহা।

এসময় অনুষ্ঠানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রউফ, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাকস শহীদুল ইসলাম, মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল মালেক, মির্জাপুর পৌরসভার মেয়র সাহাদৎ হোসেন সুমনসহ কুমুদিনী কল্যাণ ট্রাস্টের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং কুমুদিনী কমপ্লেক্সের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে রাতে মন্ত্রী দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার ১২৩তম জন্মজয়ন্তীর কেক কাটেন।

এর আগে অর্থমন্ত্রী কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল, ভারতেশ্বরী হোমস, নার্সিং কলেজসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন।

এইচআর

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও