‘বুলবুলে’ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত কৃষি পুনর্বাসন করা হবে: কৃষিমন্ত্রী

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

‘বুলবুলে’ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত কৃষি পুনর্বাসন করা হবে: কৃষিমন্ত্রী

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ১০:০২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৯, ২০১৯

‘বুলবুলে’ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত কৃষি পুনর্বাসন করা হবে: কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, দেশে ঘূর্ণিঝড়ে আশঙ্কাজনক এলাকাগুলোতে সকল কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। দ্রুতই দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলোতে যেতে নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং কৃষির ক্ষয়ক্ষতি হলে তার নিরুপণ করতে বলা হয়েছে।

শনিবার বিকেলে টাঙ্গাইলের মধুপুরে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে ‘বৃহত্তর ময়মনসিংহ নৃ-তাত্ত্বিক জনউৎসব’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের মন্ত্রী উত্তরে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত কৃষি পুনর্বাসন কার্যক্রম চালানো হবে। বীজ, সারসহ যত রকম সাহায্য সহযোগিতা দরকার তা করা হবে। ঘুর্ণিঝড়ের পরে কৃষির ক্ষয়ক্ষতি নিরূপন করে তাদের সরকারি সাহায্য দেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ একটি প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল। দেশের সকল আন্দোলন, সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে। প্রতিটি সম্মেলনে গঠণতন্ত্র যুগোপযুগি, আধুনিকায়ন ও নতুন নেতৃত্ব আনা হয়ে থাকে। আগামী ২১তম সম্মেলনেও যোগ্য, সৎ, নিষ্ঠাবান ও তরুণ নেতৃত্বকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। আমারা চাই তরুণদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব আসুক।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে বোরো ও আমন ধান উদ্বৃত্ত ফসল উৎপাদন হয়েছে। এই উদ্বৃত্ত হওয়ার কারণে ধানের দাম কমে গিয়েছে। চেষ্টা করছি কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার জন্য। কিন্তু গুদামগুলোতে স্থান সংকুলান না হওয়াতে ধান কিনতে পারছি না। তবুও এবার ৬ লাখ টন ধান ক্রয় করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি এই ধান ক্রয় করা হবে। এখানে মধ্যসত্বভোগীদের কোন স্থান হবে না। লটারির মাধ্যমে তাদের তালিকা চুড়ান্ত করা হবে। এ বছর যারা পাবে, তারা আবার বোরো মৌসুমে পাবেন না।

মন্ত্রী বলেন, দেশের জন্য টাঙ্গাইলের মধুপুরের বন খুব গুরুত্বপূর্ণ। মধুপুরের বন এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। বনকে রক্ষা করার অনেক চেষ্টা করা হচ্ছে। দুই ধাপে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প করে বন ধ্বংস কিছুটা ঠেকানো হয়েছিল। বনের চেহারার ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছিল। সংস্কৃতি সমৃদ্ধ মধুপুরের আদিবাসীরা বনে বিচরণ করেন। বনেই তাদের বসবাস। এ বনকে তারা অন্তর দিয়ে ভালোবাসে। তাদের রক্ষা করা গেলে বন রক্ষা পাবে। বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীর পৃথক সংস্কৃতিগুলোর চর্চা ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে হারানোর সুযোগ থাকবে না। বরং দেশের সংস্কৃতি আরও সমৃদ্ধ হবে।

মধুপুরে জেলা পরিষদের অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ বাবু, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ডা. কামরুল হাসান খান, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুস সামাদ, সমন্বয় পরিষদের মহাসচিব রাশেদুল হাসান শেলী, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছরোয়ার আলম খান আবু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার শফিউদ্দিন মনি, মধুপুরের মেয়র মাসুদ পারভেজ, আদিবাসী নেতা অজয় এ মৃ, ইউজিন নকরেক, নারী ভাইস চেয়ারম্যান যষ্ঠিনা নকরেক প্রমুখ।

এআরই

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও