বিদায় বেলায় কাঁদলেন এসপি হারুন (ভিডিও)

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

বিদায় বেলায় কাঁদলেন এসপি হারুন (ভিডিও)

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ৮:১৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৭, ২০১৯

নারায়ণগঞ্জ থেকে সদ্য প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ নিজের বিদায় লগ্নে কেঁদেছেন। 

কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, 'স্বাধীনতা বিরোধীরা আমার চাকরি খেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে আমার চাকরি ফিরিয়ে দিয়েছেন। আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান।'

বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইনসে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসপি হারুন এসব কথা বলেন। বক্তব্য শেষেও কাঁদতে দেখা যায় তাকে।

পুলিশ সুপার হারুন বলেন, 'আমি যদি অপরাধ করে থাকি তাহলে তদন্ত হোক। তবে আমি কোন অপরাধীকে ছাড় দেইনি। আমার সামনে আমার সহকর্মীর মাথায় কেউ পিস্তল তাক করবে আর সেটা আমি সহ্য করবো, তা কিছুতেই হতে পারে না। '

'সেই দিন আমার সহকর্মীর মাথায় পিস্তল ধরেছিল পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যানের ছেলে রাসেল। আমি তখন ভেবে দেখিনি সে সম্পদশালী নাকি, শক্তিশালী। আমি আইন মোতাবেক কাজ করেছি। বিধি মোতাবেক তাকে চ্যালেঞ্জ করে তার গাড়ি আটকিয়ে মাদক ও গুলি পেয়েছি। সে অস্ত্রসহ পালিয়েছে। অথচ এখন সে বলছে আমি নাকি টাকা চেয়েছি।' বলেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

হারুন আরও বলেন, 'আমরা রাসেলের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছি। গুলশান ডিসিকেও এ ব্যাপারে অবগত করা হয়েছিল। রাসেলের ছেলে বলেছিল অস্ত্র সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সাহায্য করবে। তাই তাকে আনা হয়েছিল। কিন্তু তার মা ছেলেকে একা ছাড়বেন না বলে, ইচ্ছাকৃত আমাদের সাথে এসেছিলেন। তাদের সম্মানের সঙ্গে নিয়ে আসছি। আনার পর তাদেরকে অফিসের ওয়েটিং রুমে বসতে দেয়া হয়েছিল।'

'ঘটনার পরের দিন পারটেক্স গ্রুপের কর্ণধার আসলেন। তিনি নিজেও স্বীকার করলেন এ অস্ত্র রাসেলের কাছে থাকা নিরাপদ নয়। তিনিও এ ব্যাপারে সাহায্য করবেন বলে জানালেন। এ সংক্রান্ত একটি মুচলেকা দিলেন। আমি তার হেফাজতে রাসেলের স্ত্রী-পুত্রকে ছেড়ে দিলাম। এমনকি তাদেরকে আমার বাসায় নিয়ে সম্মানের সঙ্গে বিশ্রাম নিতে দিলাম এবং আপ্যায়ন করলাম। অথচ একটা গ্রুপ বিষয়টিকে ভিন্নভাবে নিয়ে অভিযোগ দিয়েছে।'

বিতর্কিত এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, 'এর আগে আনিছুর রহমান সিনহাকে আটক করেছিলাম। তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট রয়েছে। পরদিন তাকে আদালতে প্রেরণ করবো। কিন্তু তিনি একজন ব্যবসায়ী, ভিআইপি মানুষ। তিনি এক সপ্তাহের সময় নিয়ে বললেন, এরমধ্যে ওয়ারেন্ট সব কাটাবেন। তার সম্মানটা যাতে নষ্ট না করি। ভিআইপি, সম্মানিত ব্যক্তি বলে সেদিন তাকে ছাড়া হয়। তিনিও মুচলেকা দিয়েছিলেন এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি সব মামলায় আদালতে হাজির হবেন। আনিছুর রহমান সিনহা কিংবা পারটেক্স গ্রুপের হাশেম সাহেব আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ তুলেছেন ওই পক্ষটি। যে পক্ষটি আমার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত।যারা সন্ত্রাস করতে পারেনি। চাঁদাবাজি করতে পারেনি। মাদক ব্যবসা, ভূমিদস্যুতা করতে পারেনি আমার জন্য। সেই তারাই অভিযোগ দিয়েছে। এসব তদন্ত হলে বের হয়ে আসবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।'

অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জসিমউদ্দিন,  র‌্যাব-১১ এর সিও কাজী শমসের, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহাবুবুর রহমান মাসুম প্রমুখ।

এর আগে গত ৩ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন আর রশীদকে পুলিশ হেড কোয়াটারে বদলি করা হয়। এরপরও তিনি নারায়ণগঞ্জে অবস্থান করছেন।

এপি/পিএসএস

আরও পড়ুন...
রাসেলের স্ত্রী-ছেলেকে তুলে নেন এসপি হারুন!
নারায়ণগঞ্জের এসপি হারুনকে বদলি
এসপি হারুনের বিষয়ে তদন্ত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও