পদ্মায় সব হারিয়ে নিঃস্ব হাজারো পরিবার

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

পদ্মায় সব হারিয়ে নিঃস্ব হাজারো পরিবার

মেহেদী হাসান মাসুদ, রাজবাড়ী ৭:২৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৩, ২০১৯

পদ্মায় সব হারিয়ে নিঃস্ব হাজারো পরিবার

রাজবাড়ী জেলাটি পদ্মা নদী বেষ্টিত হওয়ায় প্রতি বছরই নদী ভাঙনের শিকার হয়ে হাজার হাজার পরিবারের সহায় সম্বল নদীতে বিলীন হচ্ছে। বর্তমানে ভাঙন কবলিতরা সহায় সম্বল, ঘর বাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব জীবন যাপন করছেন।

নদীভাঙন কবলিত হাজারেরও বেশি পরিবার তাদের সব কিছু হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে, রাস্তার পাশে, স্কুল মাঠে, বাঁধের ধারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।নিঃস্ব পরিবারগুলো এখন দিনযাপন করছেন অনাহার-অর্ধাহারে।

দৌলতদিয়া, দেবগ্রাম, রতনদিয়া ও ছোট ভাকলা ইউনিয়নের দেড় হাজারেরও বেশি পরিবার নদী গর্ভে সব হারিয়েছেন। এ পর্যন্ত সরকারের কাছ থেকে কোন ধরনের সাহায্য সহযোগিতা পাননি বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। তাদের দাবি সরকার যদি তাদের বসবাসের জন্য স্থান করে দিতো তাহলে তারা বেঁচে থাকতে পারতেন।

গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর নদী ভাঙনের ভয়াবহতা ছিল সবচেয়ে বেশি। রাজবাড়ীর ৫টি উপজেলার পাংশা, বালিয়াকান্দি, সদর ও গোয়ালন্দসহ এই চারটি উপজেলা পদ্মা নদী তীরবর্তী হওয়ায় প্রতি বছরই নদী ভাঙনের কবলে সব হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন।

সমীক্ষায় দেখা যায়, চলতি বছর নদীভাঙনে ১ হাজার  ৫শ ৩২ টি পরিবারের ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ নদী ভাঙনে সব হারিয়ে রাস্তার পাশে, স্কুলের মাঠে ও বাঁধের ধারে জীবনযাপন করছেন। তাছাড়া পরিবারগুলোর কষ্টের আর সীমা নেই। খেয়ে না খেয়ে খোলা আকাশের নিচেই বসবাস।

দৌলতদিয়া ও দেব গ্রাম ইউনিয়নের ভাঙন কবলিত পরিবারগুলোর একই দশা।

বিভিন্ন জায়গায় ঠাঁই নেয়া ময়না বেগম, রাশিদা আক্তার, কুলসুম বেগম, মনোয়ারা বেগম, জহির মন্ডল, আরশাদ শিকদাররা বলেন, এক সময় তাদের ঘর-বাড়ি, ফসলি জমি, গরু ছাগল, গোলাভরা ধান সবই ছিল। এখন একাধিকবার নদী ভাঙনের ফলে পুরোপুরি নিঃস্ব জীবন যাপন করছেন। তাদের এখন দেখার কেউ নেই।অসহায় পরিবার গুলো সরকারের পক্ষ থেকে ও জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোন সাহায্য সহযোগিতা তারা পাননি বলে অভিযোগ তাদের।

দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ড সদস্য মো. আশরাফ হোসেন বলেন, তার ওয়ার্ডের প্রায় সাড়ে আটশত পরিবারের সহায় সম্বলসহ নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। এ পর্যন্ত সরকারের কাছ থেকে কোন ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা পায়নি।  সরকারের পাশাপাশি সমাজের বৃত্তবানরাদের অসহহায়দের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

মোস্তফা মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজের  পরিচালক মো. সেলিম মুন্সি বলেন, তিনি ভাঙন কবলিতদের ৫শ জনের ত্রানের ব্যবস্থা করেছেন। তাদের পাশাপাশি বৃত্তবানরাও যেন নদী ভাঙন কবলিতদের পাশে দাঁড়ায় এবং সরকার যেন খাস জমি বন্দোবস্তের মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে তাহলে কিছুটা হলেও ভালো থাকতে পারবে সেই প্রত্যাশা করেন তিনি।

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন, এবারের ভয়াবহ নদীভাঙনে জেলার প্রায় ১ হাজার ৫শ পরিবারের সহায় সম্পদ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। তাদের পুনর্বাসনের জন্য জেলা প্রশাসনের  পক্ষ  থেকে তালিকা করে যাদের জমি আছে তাদের টিন বরাদ্দ ও যাদের জমি নেই তাদের খাস জমি বরাদ্দের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের বাসস্থানের বন্দোবস্তে উদ্যোগ গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।

এমএইচএম/এমকে

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও