অবশেষে কারামুক্ত হলেন নির্দোষ নয়ন

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

অবশেষে কারামুক্ত হলেন নির্দোষ নয়ন

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ৬:৫৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০১৯

অবশেষে কারামুক্ত হলেন নির্দোষ নয়ন

নামে মিল থাকায় ধর্ষণ মামলায় বিনাদোষে ২৮দিন কারাবাসের পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন টাঙ্গাইলের সখীপুরের প্রতিমাবংকী গ্রামের কলেজছাত্র বাবুল হোসেন নয়ন। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে টাঙ্গাইল কারাগার থেকে তিনি বের হন।

এর আগে বুধবার দুপুর ১টার দিকে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সখীপুর-নাগরপুর আমলী আদালতের বিচারক আকরামুল ইসলাম তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। আসামি (নয়নের) পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট সেলিম আল দীন ও রফিকুল ইসলাম জামিন শুনানিতে অংশ নেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী বলেন, মামলার চার্জশীট আদালতে না আসা পর্যন্ত আদালত নয়নকে অস্থায়ী জামিন দিয়েছেন। পরে বিকেলেই কারাগারে ওই কলেজ ছাত্রের জামিননামা পৌঁছায়।

টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের জেলার আবুল বাশার পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, জামিননামা কারাগারে আসার পর সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে নয়ন মুক্তি পান।

সখীপুর উপজেলার প্রতিমাবংকী গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে কলেজছাত্র বাবুল হোসেন নয়ন। সে স্থানীয় সরকারি মুজিব কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। সখীপুরের এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার হন নয়ন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর মেয়েটির মা বাদী হয়ে প্রতিবেশী শাহজাহান আলীর ছেলে বাবুল হোসেন নয়নকে আসামি করে থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মামলার পর পরই নয়নকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠান। কিন্তু গ্রেফতারকৃত কলেজছাত্র নয়ন গ্রেফতার হয়েই পুলিশের কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছিলেন। পরে পুলিশ মামলার ভিকটিমের মুখোমুখি করলে মেয়েটি গ্রেফতার হওয়া বাবুল হোসেন নয়নকেই ধর্ষক হিসেবে চিহ্নিত করে। এ সময় নয়ন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ওই ছাত্রীকে চিনেন না এবং অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত নয় বলেও জানিয়েছিলেন। এদিকে এ ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

পুলিশ, মামলার আরজি ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর সখীপুর উপজেলার পঞ্চম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রী বাসাইল উপজেলার চাপড়াবিল এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। এর চারদিন পর টাঙ্গাইল ডিসি লেকের পাশ থেকে পরিবারের লোকজন ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে। পরিবারেরে চাপে মেয়েটি নয়ন নামের এক ছেলের সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়েছিলেন বলে জানান। পরে গত ২৬ সেপ্টেম্বর মেয়েটির মা বাদী হয়ে প্রতিবেশী শাহজাহান আলীর ছেলে বাবুল হোসেন নয়নকে আসামি করে থানায় অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। মেয়েটির অনড় অবস্থানের কারণে নয়নকে পাঁচদিনের রিমাণ্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠালে আদালত পুলিশকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সখীপুর থানার এসআই আসাদুজ্জামান বলেন, জেলগেটে জিজ্ঞাবাদের সময়ও নয়ন বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করছিলেন। মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় অধিকতর গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হয়। মেয়েটির কাছ থেকে পাওয়া কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলের ভিজিটিং কার্ডের সূত্র ধরে চলে তদন্ত। পরে ওই হোটেলে দেওয়া মোবাইল নম্বর ও সিসি টিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করলে মামলার প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হয়। প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত ৭ অক্টোবর ঘটনার আসল হোতা নয়ন মিয়াকে বাসাইল বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রেফতার করা হয়। সে বাসাইল উপজেলার বাঘিল গ্রামের ফারুক ওরফে নূহু মিয়ার ছেলে। পরে গ্রেফতার হওয়া নয়ন মিয়া ওই ছাত্রীকে কক্সবাজারের একটি হোটেলে রেখে ধর্ষণ করেছে বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

সখীপুর থানার ওসি আমির হোসেন বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়। নিরাপরাধ নয়নকে মুক্তি দিতে আদালতকে পুলিশের পক্ষ থেকে অবহিত করার ফলেই জামিন হয়েছে। 

এদিকে নয়ন মুক্তি পাচ্ছেন এমন সংবাদে বাবা শাহজাহান আলী, মা মিনতি বানু, চাচা আলী হোসেনসহ পরিবারের লোকজন বুধবার সকাল থেকেই টাঙ্গাইলের আদালত পাড়ায় অপেক্ষা করছিলেন। কারাগার থেকে বের হয়েই বাবা-মাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন নয়ন। তারাও আনন্দাশ্রু সংবরণ করতে পারেননি। এ সময় এক হৃদয় বিদারক ঘটনার অবতারণা হয়।

নয়নের বাবা-মা বলেন, মিথ্যা মামলার কারণে প্রায় একমাস আমার নির্দোষ ছেলেটা জেল খাটল। ডিগ্রী চূড়ান্ত পরীক্ষাটাও দিতে পারলো না। তারা ক্ষতিপূরণ ও বাদীপক্ষের শাস্তি দাবি করেন।

তারা বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রশংসা করে বলেন, সাংবাদিকরাই লিখেছেন বলেই তাদের নির্দোষ ছেলের মুক্তি মিলেছে।

এএএন/এইচকে

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও