টাঙ্গাইল শাড়ির ভাজে ইয়াবার ব্যবসা!

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

টাঙ্গাইল শাড়ির ভাজে ইয়াবার ব্যবসা!

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ১১:৪৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০১৯

টাঙ্গাইল শাড়ির ভাজে ইয়াবার ব্যবসা!

টাঙ্গাইল শাড়ির অন্তরালে ইয়াবা ব্যবসায় রাতারাতি কোটিপতি দেলদুয়ারের জাকির (৩০) বলে অভিযোগ উঠেছে। বাপ-দাদা অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহের তথ্য প্রকাশ পেলেও সম্প্রতি সরাতৈল গ্রামের পৈত্রিক জমিতে জাকিরের প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিলাশবহুল দ্বিতল ভবনে হতবাক স্থানীয়রা।

এ নিয়ে জাকিরের টাঙ্গাইল শাড়ির ব্যবসা রমরমা নাকি গোপন কিছু এমন শঙ্কায় প্রশ্নবিদ্ধ ছিলেন স্থানীয়রা।

গত ৮ অক্টোবর ঢাকার রেলওয়ে থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া দেলদুয়ার উপজেলার সরাতৈল সিকদার বাড়ির গফুর সিকদারের ছেলে মিঠু সিকদার (৪৫) এর স্বীকারোক্তিতে প্রকাশ পায় জাকিরের এই ইয়াবা ব্যবসার তথ্য।

তবে এ ব্যবসার সহযোগী গ্রেফতার হলেও এর মূলহোতা ও একই গ্রামের সাহাবুদ্দিনের ছেলে জাকির (৩০) আজও ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

দেলদুয়ার উপজেলার সরাতৈল গ্রামের স্থানীয়রা জানান, পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া মিঠু আগে অন্যের জমিতে শ্রমিকের কাজ করতেন। এক পর্যায়ে জাকিরের সাথে সখ্য গড়ে ওঠে তার। এ সখ্যতার পর থেকেই জাকিরের সাথে শাড়ির ব্যবসায় সহযোগিতা করতে থাকেন তিনি।

এর কয়েকদিন পর মিঠুর চলাফেরা, আচরন পরিবর্তন এবং আর্থিক অবস্থার উন্নতিও হতে থাকে। এছাড়াও তার আকস্মিক এই পরিবর্তনের বিষয়ে প্রশ্নে জাকির তাকে ভাল বেতন দেয় বলে জানিয়েছিল মিঠু এমনটাই জানান স্থানীয়রা।

তবে গত ৮ অক্টোবর পুলিশের হাতে এক হাজার ৫শ’ পিস ইয়াবাসহ মিঠুর গ্রেফতার হওয়ার পর জানতে পারেন জাকিরের শাড়ির ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা ব্যবসার কথা। অপরদিকে সহযোগী মিঠুর গ্রেফতারের খবর পেয়ে ওই দিনই আত্মগোপনে চলে যায় এ ব্যবসার মূলহোতা জাকির।

পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কমলাপুর রেল স্টেশনে আসা ট্রেন থেকে নেমে দ্রুত পালাতে চেষ্টা করে মিঠু। সন্দেহজনক হওয়া তাকে আটক করা হয়। পরে তার সাথে থাকা শাড়ির বান্ডিলে তল্লাশি চালিয়ে বিশেষ কায়দায় শাড়ির ভাজে বিশেষ কায়দায় রাখা এক হাজার ৫শ’ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

এ সময় জিজ্ঞাসাবাদে মিঠু পুলিশকে জানায়, এই শাড়ির বান্ডিল তাদের গ্রামের জাকিরের। শাড়ির মালিক জাকির চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবাগুলো নিয়ে এসেছে। এখন তিনি জাকিরের কাছ থেকে নিয়ে সরবরাহ করতে ট্রেনযোগে ঢাকায় এসেছেন। এ ঘটনায় ঢাকার রেলওয়ে থানার এসআই আব্দুল মুন্নাফ বাদি হয়ে মো. মিঠু ও জাকিরকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে সরাতৈল সিকদার গ্রামের মাতাব্বর ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আব্দুল জলিল বলেন, জাকির শাড়ির ব্যবসা করতো। এছাড়াও ব্যবসা পরিচালনার শাড়ি উৎপাদনের জন্য তাদের বাড়িতে রয়েছে গোটা চারেক তাঁত। তবে এই অল্প সংখ্যক তাঁত আর শাড়ির ব্যবসায় কিভাবে সে এত টাকার মালিক হলো এটি তার জানা নেই। যদিও জাকিরের এই রাতারাতি কোটিপতি হওয়া নিয়ে সন্দেহ ছিল স্থানীয়দের। এছাড়াও দেড় হাজার পিস ইয়াবাসহ জাকিরের সহযোগী সিকদার গ্রামের মিঠু গ্রেফতার হওয়ার পর তারা বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন।

স্থানীয় ফরিদ, মান্নানসহ কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, জাকিরের বাবা সাহাবুদ্দিন প্রথমে কাপরের ব্যবসা শুরু করেন। দীর্ঘদিন ব্যবসা করার পর ছেলে জাকিরও তার বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করতে থাকেন। এক পর্যায়ে জাকির কাপড়ের ব্যবসায় পারদর্শী হলে তিনি (জাকির) নিজেদের উৎপাদিত শাড়ি নিয়ে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতে শুরু করেন। কিছুদিন যেতে না যেতেই জাকিরের চলাফেরায় অনেকটা পরিবর্তন ঘটে। এ নিয়ে সবার ধারণা জাকির শাড়ির ব্যবসায় ভালই লাভবান হচ্ছে। তবে সম্প্রতি মিঠু গ্রেফতার হওয়ার পর বেড়িয়ে আসে শাড়ির ব্যবসার আড়ালে জাকিরের এই ইয়াবা ব্যবসার বিষয়টি।

জাকিরের বাবা সাহাবুদ্দিন জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে শাড়ির ব্যবসায় লিপ্ত রয়েছেন। এ ব্যবসার শাড়ির উৎপাদনের জন্যও রয়েছে তার প্রায় শতাধিক তাঁত। বয়স হওয়ায় তিনি ছেলে জাকিরকে তিনি তার ব্যবসায়যুক্ত করেছেন।

যদিও এখন শাড়ির ব্যবসা নেমেছে মন্দা, এ কারণে তার ছেলে জাকির এই ইয়াবার ব্যবসা করবে এটি বিশ্বাস করেন না তিনি। তার দাবি, ছেলের বিরুদ্ধে কেউ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। এরপরও সত্যিই যদি তার ছেলে জাকির এই মরন নেশা ইয়াবা ব্যবসায় লিপ্ত হয় তাহলে অবশ্যয় জাকিরের শাস্তি চান তিনি।

এ ব্যাপারে দেলদুয়ার থানার ওসি সাইদুল হক ভুইয়া বলেন, ‘বিষয়টি রেলওয়ে থানা পুলিশের মাধ্যমে অবগত হওয়ার পর একটি অনুসন্ধান দলের মাধ্যমে জাকিরের খোঁজ খবর নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জাকির পলাতক রয়েছে। তবে জাকিরকে গ্রেফতার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।’

এআরই

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও