কবরস্থানের শতাধিক গাছ গোপনে বিক্রির চেষ্টা

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

কবরস্থানের শতাধিক গাছ গোপনে বিক্রির চেষ্টা

সাভার প্রতিনিধি ১১:৫৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০১৯

কবরস্থানের শতাধিক গাছ গোপনে বিক্রির চেষ্টা

সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান খান শন্তর বিরুদ্ধে একটি কবরস্থানের শতাধিক গাছ গোপনে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ, এ খবর পেয়ে গাছ বিক্রিতে বাধা প্রদানের জন্য সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল আলম ঘটনাস্থলে আসলে তাকে লাঞ্ছিত করে বর্তমান চেয়ারম্যানের লোকজন। এ ঘটনায় তিনি একটি সাধারণ ডাইরিও করেছেন।

সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল আলম অভিযোগ করে বলেন, কাউন্দিয়া ইউনিয়নের একমাত্র ‘নেকীবাড়ী কবরস্থান’-এ বিভিন্ন রকমের কয়েক’শ গাছ রোপন করা হয়। গাছগুলো অনেক বড় বড় হয়েছে। ফলে বর্তমান চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান খাঁন শান্তর নজরে পড়লে তিনি বিক্রির সিন্ধান্ত নেন। পরে গত ৪ অক্টোবর কবরস্থানের সকল গাছ গোপন টেন্ডারে বিক্রির সিন্ধান্ত নেয়।

তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে আমি বিষয়টি বুঝতে পেরে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজুর রহমানকে বিষয়টি অবহিত করলে তাৎক্ষণিক তিনি চেয়ারম্যানকে গাছ কেটে বিক্রি করতে নিষেধ করেন।

সাইফুল আরও বলেন, মঙ্গলবার সকালে নিজের হাতে গড়া কবরস্থানে গেলে চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান খাঁন শান্তর লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা চালিয়ে লাঞ্ছিত করে এবং আবু তালেব মেম্বার হুমকি ধামকি দিলে এলাকার কিছু লোকজন গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে আমাকে সরিয়ে নেয়।

অভিযোগ প্রসঙ্গে কাউন্দিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান খান শান্ত বলেন, এলাকার কবরস্থানের সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য গাছগুলো কেটে ফেলার সিন্ধান্ত নেই। সেই মোতাবেক টেন্ডারের সময় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল আলম লোকজন নিয়ে বাধা প্রদান করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া শতাধিক গাছ গোপন টেন্ডারে বিক্রির কোন নিয়ম আছে কি না জানতে চাইলে শান্ত বলেন, এটা আমার জানা ছিল না। ইউএনও সাহেব বলার পর জানতে পারলাম অনুমতি লাগবে। তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর আবেদন দিয়েছি গাছ বিক্রির অনুমতির জন্য।

সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুলকে লাঞ্ছিতের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, তিনিইতো লোকজন নিয়ে এসে কবরস্থানের সৌন্দর্য্য বর্ধনের কাজে বাধা দিচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, গত ২০ মার্চ দখলদারদের থাবামুক্ত করতে তুরাগ নদের দুই তীরে বিআইডব্লিউটিএ’র উচ্ছেদ অভিযানে বিআইডব্লিটির ম্যাজিস্ট্রেটকে বাধা প্রদান ও এক কর্মকর্তার গায়ে হাত তোলায় কাউন্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান খান শান্তকে আটক করে পুলিশ। পরে তিনি মুচলেকা দিয়ে ক্ষমা চেয়ে ছাড়া পান। চেয়ারম্যান শান্ত নদীর জায়গা দখল করে সড়ক তৈরি করে ও বালু ভরাট করে বিশাল এলাকা নিজের কব্জায় নিয়েছিল। সেই জায়গা দখলমুক্ত করার সময় ম্যাজিস্ট্রেটকে বাধা দেন তিনি।

এআরই

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও