এগারো দিনের বউকে তালাক দিয়ে শাশুড়িকে বিয়ে

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

এগারো দিনের বউকে তালাক দিয়ে শাশুড়িকে বিয়ে

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ৯:০৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০১৯

এগারো দিনের বউকে তালাক দিয়ে শাশুড়িকে বিয়ে

মাত্র এগারো দিন আগে ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল নূরন্নাহার খাতুনের (১৯)। শ্বশুরবাড়িতে এক সপ্তাহ অবস্থানের পর শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বাবার বাড়ি ফিরে আসেন নুরন্নাহার। পরদিন শনিবার বিকেলেই ঘর ভাঙে তার।

বর মোনছের আলী (৩২) শ্বশুরবাড়ি গিয়ে নববধূ নূরন্নাহারকে তালাক দিয়ে শাশুড়ি মাজেদা বেগমকে (৪০) বিয়ে করে চলে যান।

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার কড়িয়াটাআটা গ্রামে ঘটেছে এমন ঘটনা। দু’দিন আগের শাশুড়ি মাজেদা এখন মোনছের আলীর স্ত্রী হওয়ায় এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে।

স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার হাজরাবাড়ী পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে মোনছের আলী গত ২ অক্টোবর গোপালপুর উপজেলার কড়িয়াটা গ্রামের নূর ইসলামের মেয়ে নূরন্নাহার খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পরদিন শাশুড়ি মাজেদা বেগম মেয়ের বাড়ি বেড়াতে যান। মেয়ের সাথে এক সপ্তাহ সেখানে অবস্থানের পর শুক্রবার মেয়ে ও মেয়ের স্বামীকে নিয়ে নিজবাড়ি ফেরেন।

শনিবার সকালে নূরন্নাহার মোনছেরের সাথে সংসার করবেন না বলে বায়না ধরেন। শুরু হয় পারিবারিক কলহ। শাশুড়ি মাজেদা বেগম তখন নূরন্নাহার সংসার না করলে তিনি নতুন জামাতার সংসার করবেন বলে জানান।

এ অবস্থায় অসহায় শ্বশুর নূর ইসলাম গ্রাম্য সালিশ ডাকেন। হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের তালুকদার, ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্যরা সালিশী বৈঠকে বসেন। বৈঠকে মাজেদা বেগম ও মোনছের আলীকে মারধোর করা হয়। এরপর পুরো পরিবারের সম্মতিতে নূর ইসলাম প্রথমে স্ত্রী মাজেদা বেগমকে তালাক দেন। এরপর বর মোনছের আলী নবপরিণীতা নূরন্নাহারকে তালাক দেন। একই অনুষ্ঠানে সবার উপস্থিতিতে মোনছের আলীর সাথে মাজেদা বেগমের এক লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে হয়।

হাদিরা ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী জিনাত এসব কাজে যুক্ত ছিলেন। ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার, গ্রাম্য মাতবর এবং ওই পরিবারের সকল সদস্যের সম্মতিতে দুটি তালাক এবং একটি বিয়ের কাজ একই অনুষ্ঠানে সম্পাদন করা হয়।

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘পুরো কাজটি হয়েছে ওই পরিবারের সম্মতিতে। তবে শাশুড়ি বিয়ে করার ঘটনায় আপত্তি থাকায় গ্রামবাসীদের উপস্থিতিতে মোনছের ও মাজেদাকে শারীরিক শাস্তি দেয়া হয়।’

ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের তালুকদার পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘শাশুড়ি বিয়ের খবরে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী বাড়ি ঘেরাও করে মারপিট শুরু করে। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরিবারের সবার সম্মতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তিনি বিয়ের সম্মতি দেন।

এদিকে শাশুড়িকে বিয়ে করার খবরে দুদিন ধরে বহু মানুষ ভিড় করছে মোনছের আলীর বাড়িতে।

এইচআর

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও