‘সংসদ ভবনে কোনো খুনির কবর থাকতে পারে না’

ঢাকা, রবিবার, ১৩ অক্টোবর ২০১৯ | ২৭ আশ্বিন ১৪২৬

‘সংসদ ভবনে কোনো খুনির কবর থাকতে পারে না’

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ১১:১৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৭, ২০১৯

‘সংসদ ভবনে কোনো খুনির কবর থাকতে পারে না’

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপি বলেছেন, সংসদ ভবন একটি পবিত্র জায়গা। এই জায়গায় কোনো খুনির কবর থাকতে পারে না। জিয়াউর রহমান জেড ফোর্সের কমান্ডার ছিলেন। পরবর্তী কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি খুনি জিয়া হিসেবে পরিচিত। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংসদ ভবন থেকে জিয়ার কবর অপসারণ করা হবে।

সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ পরিষদ ও শহীদ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি আগেও বলেছি, কেউ যদি প্রমাণ দিতে পারেন জিয়াউর রহমানের লাশ সংসদ ভবন এরিয়ায় দাফন করা হয়েছে। তাহলে আমরা মেনে নেব। জিয়াউর রহমানের যে তথ্য আমাদের কাছে আছে। জিয়াউর রহমানকে যারা হত্যা করেছে। আমরা তাদের সাথে কখনই একমত ছিলাম না, এখনও নাই।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বিচার বিভাগ ও বিচারপতিদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, দেশে আর কোনো ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকা করার সুযোগ নাই। মুজিব নগর সরকারের কর্মচারি নামে যারা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে সাব-রেজিস্টার, কাস্টমর্সসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাকরি করছেন তাদের পক্ষ্যে কতিপয় বিচারপ্রতি রায় দিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার কলঙ্কিত করেছেন।

এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, আমরা তাদের বাদ দিয়েছি। আমরা তাদের মানি না। আদালতে কি হয়েছে আপনার তা জানেন। এটা খুব দুঃখজনক। আমাদের কাছে না জেনে, না শুনে তাদের ক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন না হয়ে যা করা হয়েছে তা ক্ষমতা ও বিচারের নামে দুর্বৃত্তায়ন করা হয়েছে। মনে রাখবেন, মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছেন বলেই আপনি বিচারপতি হয়েছেন। ভুলে যাবেন না যে আপনার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে আমরা যুদ্ধ করেনি। মুক্তিযোদ্ধাদের আর বেশি বিরক্ত কইরেন না। মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধের ট্রেনিং জমা দেয় নি, বঙ্গবন্ধুর কথায় আমরা অস্ত্র জমা দিয়েছি।

এ সময় তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে সীমালঙ্ঘন না করার হুশিয়ারারি করে বলেন, বারবার তারা মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে সীমালঙ্ঘন করছে, বলে তাদের বয়সও লেখা যাবে না। ওই অপদার্থ ও কুলাঙ্গারা স্বাধীনতার পরে যাদের জন্ম তাদেরকেও মুক্তিযোদ্ধা বানানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছে। সেইসব কুলাঙ্গারদের মেনে চলতে হবে তা ভাবার কোনো কারণ নাই। জজ সাহেব-বিচারপ্রতিরা একটু বুঝার চেষ্টা করেন। যে আদেশ মুক্তিযোদ্ধারা লাথি মেরে ফেলে দিবে ভবিষৎতে তা না দেবার চেষ্টা কইরেন।

এসময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাবেক রাষ্ট্রদুত আনোয়ারুল আলম শহীদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন, পৌরসভার মেয়র জামিলুর রহমান মিরন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যাস শাহজাহান আনছারী প্রমুখ।

এ সময় বিভিন্ন উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এআরই

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও