দুর্গাপূজা উপলক্ষে টাঙ্গাইলে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ | ২ কার্তিক ১৪২৬

দুর্গাপূজা উপলক্ষে টাঙ্গাইলে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

আব্দুল্লাহ আল নোমান, টাঙ্গাইল ৬:৪৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯

দুর্গাপূজা উপলক্ষে টাঙ্গাইলে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

দরজায় কড়া নাড়ছে শারদীয দুর্গোৎসব। আগামী ৩ অক্টোবর পঞ্চমীর মধ্যে দিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা শুরু হবে। দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের প্রতিমা তৈরির শিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।

অনেকেই প্রতিমা তৈরিতে কাজ করছেন, আবার কেউ প্রতিমাকে রং-তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলার কাজ করছেন। একই সাথে চলছে মণ্ডপ সাজসজ্জার কাজ। তাই তাদের এখন দম ফেলার সময় নেই তাদের।

এবার জেলায় এবার ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ২শ’১৪টি ম-পে পূর্জা অনুষ্ঠিত হবে। তবে এর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। ৮ অক্টোবর দশমীর মধ্যে দিয়ে এ পূর্জা শেষ হবে।

অপরদিকে প্রতিটি মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সংখ্যাক সদস্য মোতায়েত থাকবে বলে পুলিশ জানায়।

সরেজমিনে টাঙ্গাইলের কয়েকটি মণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, প্রতিমা তৈরিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। প্রতিদিন একটু একটু করে প্রতিমার অবয়ব ফুটিয়ে তুলছেন তারা। বিভিন্ন মন্দিরে শিল্পীদের প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে বিরতিহীনভাবে।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সবকিছু শেষ করতে শিল্পীরা কাজ করছেন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। ইতোমধ্যে সব মন্দিরে প্রতিমা তৈরির মূল উপাদান মাটি ও খড় দিয়ে তৈরি করা হয়ে গেছে প্রতিমার কাঠামো। এখন চলছে মন্দিরের প্রতিমায় রং তুলির আঁচড়। শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোয়ায় পরিস্ফুটিত হচ্ছেন দেবী দুর্গা ও তার ছেলে-মেয়ে লক্ষী, স্বরস্বতী, গণেশ ও কার্তিক।

অনেকেই দেবী দুর্গার সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্ভবন করছেন। প্রতিমা দেখতে অনেকেই মণ্ডপগুলোতে ভিড় করছেন। 

প্রতিমা শিল্পীরা জানিয়েছেন, তারা একেকজনে একাধিক প্রতিমা তৈরি করছেন। প্রতিমা বিক্রি করে তারা লক্ষাধীক টাকা আয় করছেন। লাভ-লোকসান যাই হোক বংশগত পেশার প্রতি সম্মান জানিয়েই তারা আনন্দের সাথে প্রতিমা তৈরি করেন।

এ ব্যাপারে কারিগর পরিমল পাল বলেন, ‘এবার আমি ১০টি প্রতিমা তৈরি করেছি। এতে আমার প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আশা করছি ৩ লাখ টাকার মতো বিক্রি হবে। এতে আমি লাভবান হবো।’

তারটিয়া পালপাড়ার পরিতোষ পাল বলেন, ‘এটা আমাদের পৈত্রিক ব্যবসা। তাই এই ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য আমরা কাজ করছি।’ 

টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলায় এবার এক হাজার ২১৪টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। সদর উপজেলায় ২০৯ টি, ধনবাড়ী উপজেলায় ২৯টি, মধুপুর উপজেলায় ৫২টি, ভূঞাপুর উপজেলায় ৩৮টি, গোপালপুর উপজেলায় ৫১টি, ঘাটাইল উপজেলায় ৭৮টি, কালিহাতী উপজেলায় ১৮০টি, দেলদুয়ার উপজেলায় ১২৪টি, নাগরপুর উপজেলায় ১২৫টি, মির্জাপুর উপজেলায় ২৩৩টি, বাসাইল উপজেলায় ৫১টি, সখীপুর উপজেলায় ৪৪টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হবে। তবে সামনে এর সংখ্যা বাড়তে পারে। এবার দেবী ঘটকে আগমন আর গমন করবেন ঘটকেই।

জেলায় উল্লেখযোগ্য মণ্ডপগুলো হলো বড়কালীবাড়ী, আদালতপাড়া, করটিয়া, বাজিতপুর, পাথরাইল, করাতিপাড়া, চণ্ডি ইত্যাদি। ৮ অক্টোবর বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে দুর্গাপূজা শেষ হবে।

এ বিষয়ে কথা হয় টাঙ্গাইল জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার ঝন্টু পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ এবং আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেবন। এছাড়া পুলিশের পাশাপাশি আমাদের লোকজনও কাজ করবেন।’

তিনি আরো বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও সরকারের পক্ষ প্রতিটি মণ্ডপের জন্য চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আশা করছি অন্যান্য বছরের মতো এ বছরও পূজা সুষ্ঠু এবং সুন্দর হবে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শফিকুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি পূজা মণ্ডপে পর্যাপ্ত সংখ্যাক আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর সদস্য মোতায়েত থাকবে। এছাড়া পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যও দায়িত্ব পালন করবে। অপরদিকে মোবাইল টিম, সাদা পোশাকে পুলিশও কাজ করবে। আশা করছি কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে পূর্জা অনুষ্ঠিত হবে।’

তিনি আরো বলেন, প্রতিমা নির্মাণের সময় যাতে কোনো প্রকার অপ্রতিকর ঘটনা না ঘটে সে লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে।

এইচআর

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও