না.গঞ্জে দুই মেয়েসহ মাকে গলাকেটে হত্যায় ঘাতক আটক

ঢাকা, শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

না.গঞ্জে দুই মেয়েসহ মাকে গলাকেটে হত্যায় ঘাতক আটক

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ৭:৫৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯

না.গঞ্জে দুই মেয়েসহ মাকে গলাকেটে হত্যায় ঘাতক আটক

নারায়ণগঞ্জে পারিবারিক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মা ও দুই মেয়েকে গলাকেটে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ঘাতক আব্বাস মিয়াকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় সিদ্ধিরগঞ্জের পাওয়ার হাউজের সামনে থেকে তাকে ডিবির একটি টিম আটক করে।

ডিবি পুলিশ জানায়, দুই মেয়েসহ মাকে গলাকেটে হত্যা ঘটনার মূল ঘাতক আব্বাস মিয়া। একটি চাকু দিয়েই তিনজনকে হত্যা করেছে সে। তার আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়নি নিজের মেয়েও। তাকেও ছুরিকাঘাত করে জখম করে মৃত ভেবে ফেলে যায়।

ডিবির পরিদর্শক এনামুল হক জানান, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে আব্বাসকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে সিদ্ধিরগঞ্জের ১নং ওয়ার্ডের সিআই খোলা এলাকার বহুতল ভবনের ৬ তলার বাসা থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

নিহতরা হলো সুমন মিয়ার স্ত্রী নাসরিন বেগম (২৬), তার মেয়ে নুসরাত (৮) ও খাদিজা (২)। নাসরিনের বোনের মেয়ে সুমাইয়াকে (১৫) ছুরিকাঘাত করা হয়। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, ‘মূলত পারিবারিক কলহের জের ধরেই তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় ঘটনাটি ঘটে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এ হত্যাকাণ্ডের ঘাতক হলেন আব্বাস। আব্বাসের সাথে তার স্ত্রীর বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের কারণে জিদ করে আব্বাসের শ্যালিকার বাসায় স্ত্রী চলে আসে। সে একটি গার্মেন্টে চাকরি করে। বৃহস্পতিবার সকালে কারখানায় চলে যায়। শ্যালিকার সঙ্গে আলাপকালে কোনো বিরোধের জের ধরেই শ্যালিকা ও তার দুই মেয়েকে হত্যা করেছে। আর আব্বাস তার প্রতিবন্ধী মেয়েকেও জখম করেছে।’

সুমাইয়া হাসপাতালে পুলিশকে বলেছেন, ‘আমার বাবা আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে। আমার বাবাই খালামনি নাসরিন বেগম ও তার দুই মেয়েকে হত্যা করেছে। বাবা মাদকাসক্ত ছিলেন। গতকালও আমাকে মারধর করেছে। সে কারণেই গতকাল আমি ও আমার মা খালামনির বাসায় চলে আসি।’

নিহতের ছোট ভাই হাসান জানান, প্রায়ই মাদক সেবন করে আমার বড় বোনের স্বামী আব্বাস মিয়া বাড়িতে এসে মারধর করতো সবাইকে। এ ঘটনায় আমার ভাগ্নি সুমাইয়া বাড়ি থেকে লুকিয়ে পালিয়ে খালার বাসায় বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) চলে আসে। পরে রাতের কোনো এক সময় তাকে নিতে আসে আব্বাস। আব্বাসই তিনজনকে গলা কেটে হত্যা করে নিজের মেয়েকেও কুপিয়ে আহত করেছে।

এইচআর

আরও পড়ুন....
গভীর রাতে দুই মেয়েসহ মাকে গলাকেটে হত্যা

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও