প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ১০ পরিবার অবরুদ্ধ, পুকুরে সাঁকো করে চলাচল

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ | ২ কার্তিক ১৪২৬

প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ১০ পরিবার অবরুদ্ধ, পুকুরে সাঁকো করে চলাচল

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ৬:৪৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯

প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ১০ পরিবার অবরুদ্ধ, পুকুরে সাঁকো করে চলাচল

টাঙ্গাইলের সখীপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী এক পরিবার রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে ১০টি পরিবারের লোকজন।

প্রভাবশালী পরিবারের পক্ষে উপজেলার চতলবাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল কাদের মিয়া রাস্তাটি বন্ধ করে দেন।

উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কালিদাস ঠকাইনা পাড়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।

গত এক মাস ধরে (১৪ আগস্ট) বাড়িঘরের সঙ্গে গ্রামের ভেতরের সংযোগ রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বন্ধ করায় বসবাসকারী ১০টি পরিবারের জনসাধারণের চলাচলে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। শুধু রাস্তা বন্ধ করেই থেমে থাকেনি, বন্ধ করে দেয়া ওই রাস্তায় গাছের চারা রোপণ করে দিয়েছেন প্রভাবশালীরা।

এদিকে কোনো উপায়ান্তর না দেখে ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন বন্ধ করে দেয়া ওই রাস্তা ঘেঁষে পুকুরের ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

জানা যায়, আবদুল মান্নানের সাথে প্রতিবেশী আবদুল কাদের মিয়ার দীর্ঘদিন জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। কালিদাস মৌজার ১৪৯৭ ও ১৪৯৯ দাগের একটি পুকুরকে নিয়ে তাদের বিরোধই বেশি। দুজনেই পুকুরের মালিকানা দাবিদার।

এ বিরোধের মধ্যেই আবদুল মান্নানের নিয়ন্ত্রণেই পুকুরটি রয়েছে। পুকুরের মালিকানা দলিলও রয়েছে আবদুল মান্নানের। পুকুরের পাড় ঘেঁষেই আবদুল কাদের মিয়ার জমিতেই ছিল পুরনো রাস্তাটি।

আবদুল কাদের মিয়া উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের চতলবাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তিনি ১০টি পরিবারের সদস্যদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত রাস্তাটি বন্ধ করে দেন। এমনকি বাড়ি থেকে বের হওয়ার যাওয়ার প্রধান রাস্তা বন্ধ করে সেখানে গাছের চারা রোপণ করে বাঁশের বেড়াও দেয়া হয়েছে। ফলে ভুক্তভোগী ১০টি পরিবারের শতাধিক মানুষ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আবদুল কাদের বলেন, ‘তার জমিতে দেয়াল নির্মাণ করলেও কেউ ফেরাতে পারবে না।’

এছাড়াও তিনি ওইসব পরিবারের লোকজনই খারাপ দাবি করে বলেন, ‘তার উচ্চ লেভেলে প্রভাবশালী লোক আছে।’

ভুক্তভোগী পরিবারের গৃহকর্তা আবদুল মান্নান, আবুল কালাম, কামাল হোসেন, আবু তালেব, ইদ্রিছ আলী, রিয়াজ উদ্দিন, আবদুস সোবহান ও আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমরা ৪০ বছরেরও অধিক সময় ধরে বাড়ি হতে বের হয়ে এই রাস্তা দিয়ে প্রধান সড়কে যাই।’

এ ব্যাপারে বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া সেলিম বলেন, ‘এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা তাদের দুর্দশার কথা তাকে জানিয়েছেন।’

এইচআর

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও