সড়কের কাজ ফেলে রেখে ঠিকাদার লাপাত্তা!

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

সড়কের কাজ ফেলে রেখে ঠিকাদার লাপাত্তা!

আব্দুল্লাহ আল নোমান, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ৩:৫৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯

সড়কের কাজ ফেলে রেখে ঠিকাদার লাপাত্তা!

টাঙ্গাইলের সখীপুর-সুরুজ জিসি সড়ক থেকে শালগ্রামপুর-তেজপুর ফেরিঘাট পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার সড়কের কাজ সম্পন্ন না করেই পালিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এবং জরাজীর্ণ সড়কে চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা।

দীর্ঘদিন মেরামতের অভাবে বেহাল দশা দেখা দেওয়া এই সড়কটি জেলার সখীপুর-সুরুজ ও শালগ্রামপুর-তেজপুর ফেরিঘাট পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার আঞ্চলিক প্রধান সড়ক।

এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, টেন্ডারের মাধ্যমে ১১.৩৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি মেরামতের কাজ পেয়েছিল মেসার্স ইউনাইটেড কমার্শিয়াল সেন্টার লিমিটেড ও রিচি এন্টাপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজ অসমাপ্ত রেখেই চলে গেছে ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।

১১ কিলোমিটারের মধ্যে ৮ কি.মি. মেরামত ও ৩ কি.মি. নতুনভাবে নির্মাণ করা। কার্যাদেশ মোতাবেক ২০১৭ সালের ৭ মে কাজ শুরু হয়ে ২০১৮ সালের ৬ নভেম্বর কাজটি শেষ হওয়ার কথা। কাজটি শুরু করে কিছু কাজ করার পর, হঠাৎ করে কোনো কিছু না জানিয়েই কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নর্দার্ন বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় এবং বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার অর্থায়নে ওই সড়কের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি, ৯২ লাখ ১৭ হাজার ৫২০ টাকা। 

স্থানীয় এলাকাবাসী কামরুল হাসান ও হারুনুর রশীদ বলেন, ‘সড়কের কাজ অসমাপ্ত থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে অসংখ্য যানবহন। প্রতিদিন ঘটছে ছোট বড় নানা দুর্ঘটনা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণের কথা থাকলেও কয়েকটি কালভার্ট অর্ধসমাপ্ত রাখায় এতে চলাচলে দারুণ ঝুঁকি রয়েছে। ফলে নাজেহাল অবস্থায় পড়ে আছে সড়কটি।’

জানা যায়, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি ১১ কিলোমিটার সড়কের কাজ কোনো কোনো স্থানে অর্ধেক, আবার কোনো স্থানে তার চেয়েও কম কাজ সমাপ্ত করেছে।

সড়কের কয়েকটি স্থানে ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু করেও বিধ্বস্ত অবস্থায় তা ফেলে রেখে গেছেন। স্থানীয়রা জানায়, বাধ্য হয়ে তারা কয়েক কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প রাস্তায় মালামাল পরিবহন করছেন। 

সড়কটির সুপার ভিশনের দায়িত্বে থাকা এলজিইডি সখীপুর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের সার্ভেয়ার ফরমান আলী বলেন, কাজ ফেলে রাখায় যেটুকু করা কাজ তাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ওই ঠিকাদারকে কাজটি সমাপ্ত করার জন্য বারবার ফোনে ও চিঠির মাধ্যমে জানানো হলেও তিনি কোনো কর্ণপাত করেননি। এছাড়াও কাজটি বাতিল করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

কাজ ফেলে রাখার বিষয়ে জানতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক আলমগীর হোসেন পিন্টুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এলজিইডি সখীপুর উপজেলা প্রকৗশলী কাজী ফাহাদ কুদ্দুছ বলেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে গেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিকল্প ঠিকাদার নিয়োগ করে বাকি কাজ সমাপ্ত করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এএএন/পিএসএস

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও