টাঙ্গাইলে ২১ দিনেও উদ্ধার হয়নি প্রবাসী যুবকের লাশ

ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

টাঙ্গাইলে ২১ দিনেও উদ্ধার হয়নি প্রবাসী যুবকের লাশ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ৭:০৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০১৯

টাঙ্গাইলে ২১ দিনেও উদ্ধার হয়নি প্রবাসী যুবকের লাশ

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পরকীয়া ও পাওনা টাকা চাওয়ায় খুন হয়েছেন মোশারফ মিয়া নামের সৌদি প্রবাসী এক যুবক। খুনের ২১ দিন অতিবাহিত হলেও লাশ উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

নিহত যুবক ঘাটাইল উপজেলার দিগড় ইউনিয়নের মাইদারচালা নয়াবাড়ি গ্রামের সেকান্দর আলীর ছেলে।

খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একই গ্রামের সৌদি প্রবাসী ইসমাঈল হোসেনের স্ত্রী নাছিমা (৩৫) ও তার ভাবী সোনিয়াকে গ্রেফতার করেছে কালিহাতী থানা পুলিশ।

মামলার অপর আসামি নাছিমার ভাই কালিহাতী উপজেলার বীরবাসিন্দা গ্রামের মৃত মেছের আলী মণ্ডলের ছেলে ভিয়াইল মাদ্রাসার শিক্ষক আকতার হোসেন পলাতক। 

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট বিকেলে কদমতলী গরুর হাট থেকে ফেরার পর রাত ৯টায় নিখোঁজ হন মোশারফ মিয়া (২৫)। পরদিন ঘাটাইল থানায় নিখোঁজের ব্যাপারে সাধারণ ডায়রি (জিডি) করা হয়। মোশারফের মুঠোফোনের কলের তালিকার সূত্র ধরে প্রতিবেশী নাছিমাকে (৩৫) ১৬ আগস্ট রাতে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে মোশারফের সাথে পরকীয়ার কথা স্বীকার করেন নাছিমা।

তিনি পুলিশকে জানান, গত ৪ আগস্ট রাতে মোশারফকে ডেকে নিয়ে তিনি (নাসিমা) ও তার ভাই আকতার মিলে তাকে (মোশারফ) খুন করে। ১৭ আগস্ট এ ব্যাপারে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন নাছিমা। এদিকে নাছিমার ভাবী আকতারের স্ত্রীকেও আটক করে পুলিশ।

মামলার বাদী নিহত মোশারফের ছোট ভাই কলেজছাত্র সজিব মিয়া বলেন, ২০১২ সাল থেকে মোশারফ সৌদিতে ছিলেন। তিনি বিদেশ থেকে অধিকাংশ টাকা-পয়সা নাছিমার নামে পাঠিয়েছেন। এবার দেশে ফিরে টাকা ফেরত চাইলে নাছিমা ও তার ভাই মিলে পরিকল্পিতভাবে তাকে খুন করেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কালিহাতী থানার এসআই নাসির উদ্দিন বলেন, গত ৪ আগস্ট রাতে মোশারফ মিয়াকে হত্যা করে কালিহাতীর গজারিয়া বিলে লাশ গুম করা হয়। পরকীয়া ও পাওনা টাকা চাওয়া থেকেই এ খুনের ঘটনা ঘটেছে। মোশারফের ভাই সজিব মিয়া বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এ হত্যাকাণ্ডে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নাছিমা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি জেলহাজতে আছেন। আর নাছিমার ভাবী সোনিয়াকে দুই দিনের রিমান্ডে নেয়া হলে তার স্বামী আকতার হোসেন ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত বলে জানিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, লাশের নখ ও পায়ের চামড়া পাওয়া গেলেও লাশটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক পলাতক রয়েছেন।

এইচআর

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও