কর্মস্থলে ফিরতেও ভোগান্তি

ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

কর্মস্থলে ফিরতেও ভোগান্তি

রাজবাড়ী প্রতিনিধি ১০:৩৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৯

কর্মস্থলে ফিরতেও ভোগান্তি

দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট দিয়ে ঈদ শেষে ভোগান্তি নিয়ে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ।

শনিবার ছুটির শেষ দিন হওয়ায় সকাল থেকেই মানুষের ঢল নামে দৌলতদিয়া ঘাটে।

এদিকে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুন যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে ঘাট কর্তৃপক্ষ।

বিআইডব্লিটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, স্বাভাবিক সময়ে এই নৌরুট দিয়ে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫ শত ছোট বড় যানবাহন পারাপার করা হয়। কিন্তু শনিবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় পার করা হয়েছে ৫ হাজার ১১৩টি ছোট বড় যানবাহন। আর শনিবার সকাল ৬টা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত পার করা হয়েছে সাড়ে চার হাজার যানবাহন। যা স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুন।

শনিবার সন্ধ্যায় দৌলতদিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, দৌলতদিয়া জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের গোয়ালন্দ বাজার পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার এলাকায় দুই সারিতে সিরিয়ালে আটকা পড়েছে অন্তত ৬ শত যাত্রীবাহী বাস।

অপরদিকে গোয়ালন্দ বাজারের পাশ দিয়ে পদ্মার মোড় হয়ে শাখা সড়ক দিয়ে পারাপার করা হচ্ছে প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস। এই শাখা সড়কেও পারের অপেক্ষায় সিরিয়ালে রয়েছে ৩ কিলোমিটার এলাকায় অন্তত ৬ শত গাড়ি।

এছাড়াও যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ১৩ কিলোমিটার পিছনে গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাক আটকে রেখেছে পুলিশ প্রশাসন। এখানেও পারের অপেক্ষায় রয়েছে অন্তত ৩ শত ট্রাক।

এ সময় কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা পেয়াজ বোঝাই ট্রাকের চালক মিজান মিয়া বলেন, আমি বৃহস্পতিবার গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় আসার পর পুলিশ আমাকে আটকে রেখেছে। বলেছে ঘাটে খুবই জানজট ঘাটে জানজট কমলে তবেই আমাকে পার হতে দিবে। কিন্তু সড়কে গাড়ির যে চাপ মনে হচ্ছে না দুই এক দিনে পার হতে পারবো না। টানা দুই দিন রাস্তার বসে থেকে পকেটের টাকা খরচ করে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে।

দৌলতদিয়া ঘাটে আটকে থাকা একে ট্রাভেলসের যাত্রী মাসুদ রানা বলেন, আমরা ঘাটে আটকে আছি অন্তত ৬ ঘণ্টা। গাড়ি একটু আগায় আবার এক ঘণ্টা বসে থাকে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা শনিবার সারা রাত বসে থেকেও ঢাকায় যেতে পারবো না। 

আরমান নামের অপর এক যাত্রী বলেন, শনিবার ছুটির শেষ দিন তাই সবাই একযোগে কর্মস্থলে ফিরছে। যে কোন মূল্যে হোক আমাকে রাতের মধ্যে ঢাকায় যেতে হবে কারণ রোবার প্রথম অফিস খোলা। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে পরিবার পরিজন নিয়ে। পরিবার পরিজন না থাকলে ফেরি পারাপার গাড়ি থেকে নেমে লঞ্চে পার হয়ে যেতাম।

বিআইডব্লিটিএ’র ট্রাফিক অফিসার ফরিদুল ইসলাম বলেন, যাত্রীর যে চাপ এতে নিয়ম মেনে চলাই কষ্ট হয়ে পড়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করতে। এ ছারাও লঞ্চঘাটে কাজ করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক আবু আব্দুল্লাহ রনি জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বর্তমানে ১৯টি ফেরি চলাচল করছে। শনিবার সারাদিন আবহাওয়া ভালো থাকায় ফেরি চলাচলে কোন বিঘ্ন ঘটেনি। যে কারণে রেকর্ড সংখ্যক যানবাহন পারাপার করা হয়েছে। এই চাপ রোববার ও সোমবারও থাকতে পারে।

এসবি

আরও পড়ুন...

দৌলতদিয়ায় বেড়েছে যাত্রী চাপ, নেই যানজট

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও