খানা-খন্দে অচল সড়ক কবে হবে সচল?

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

খানা-খন্দে অচল সড়ক কবে হবে সচল?

মেহেদী হাসান মাসুদ, রাজবাড়ী ৬:০৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০১৯

খানা-খন্দে অচল সড়ক কবে হবে সচল?

বালিয়াকান্দি সদরের সড়কে বড় বড় গর্ত, খানা-খন্দ হওয়ায় যানবাহন চলাচলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে উপজেলা সদরে যাতায়াতকারীদের হাঁটার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই জনসাধারণকে কোনো না কোনো দুর্ঘটনার স্বীকার হতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন কয়েক কয়েক বছর তো গেল আর কতদিন লাগবে এই সড়কটির দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটতে?

মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, বালিয়াকান্দি হাসপাতাল থেকে চৌরাস্তা হয়ে বাজারের মধ্যে দিয়ে যাওয়া সোনাপুর সড়কটির অবস্থা ভালো। তবে বালিয়াকান্দি স্টেডিয়াম মাঠ থেকে সাধু মোল্যার মোড়, সাধু মোল্যার মোড় থেকে ওয়াপদা মোড়, ওয়াপদা মোড় থেকে তালপট্টি, বালিয়াকান্দি চৌরাস্তা থেকে ঘিকমলা প্রায় ১৩ কিলোমিটারের অধিকাংশ জায়গায় ভাঙাচোরা খানা-খন্দে ডোবার মতো অবস্থা হয়েছে।

বৃষ্টির পানিতে ভরপুর গর্তগুলো। এছাড়াও ওয়াপদা থেকে মধুখালী যেতে বালিয়াকান্দি অংশেও সড়কেও গর্ত যা মানুষের হাঁটার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ওয়াপদায় ১০ টনের উপর ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞার একটি সাইনবোর্ড দেখা যায়। তবে কে নিয়ন্ত্রণ করবে এই যানবাহনগুলো সেটা এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়।

বালিয়াকান্দি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটি এতটাই খারাপ যে মোটরসাইকেল ও হাঁটা লোকজন স্কুলের বারান্দা হয়ে বালিয়াকান্দি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেট দিয়ে বের হচ্ছে। এছাড়া হলিচাইল্ট প্রি-ক্যাডেট স্কুলের খেলার মাঠ দিয়েও ভ্যান চলতে দেখা গেছে।

সড়কের পাশে বসবাস করা বাসিন্দারা পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, এমন কোনো দিন নেই এই সড়কে দুর্ঘটনার স্বীকার হতে হচ্ছে না ছোট-বড় যানবাহন চালকদের। ঈদের আগের দিন ওয়াপদায় রাত ৯টার সময় ৫টি গরুসহ একটি স্থানীয়ভাবে তৈরি করা ইঞ্জিনচালিত যান উল্টে হয়ে যায়। তার আগের দিন সারারাত আটকে থাকতে হয়েছে বালুবাহী একটি ট্রাক। প্রায় প্রতিদিনই নসিমনসহ সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. নায়েব আলী শেখের বাড়ির সামনে দেখতে ডোবার মতো সেখানে উল্টে হাবুডুবু অবস্থায় দেখা যায়। ঈদের নামাজের পর ছোট ছোট দুইটি বাচ্চা নিয়ে মোটরসাইকেলসহ চালককে সড়কের মাঝে গর্তে পড়ে যেতেও দেখা গেছে।

উপজেলা সদরের পাশেই বসবাসবাসারী মারুফ মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মোটরসাইকেল ছিল, বিক্রি করে দিয়েছি। কারণ সদরের সড়কের যে অবস্থা মোটরসাইকেল চালানোও দায়। ঈদের আগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সড়কটি অন্তত হাঁটার উপযোগী করবে বলে আশা করেছিলাম তাও তো দেখলাম না।

সদর এলাকায় বসবাসকারী কাজী অংকনসহ ঈদে নামাজ পড়তে আসা একাধিক চাকরীজীবি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশের দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটছে। বালিয়াকান্দি সদরের সড়কগুলো বছরের পর বছর বেহাল অবস্থা থাকলেও দেখছে না কেউ। উপজেলা সদরে বসবাস করেও হেঁটে বাজারে যেতে পারি না। ঈদের নামাজ পড়ে বিকল্প সড়ক হিসেবে পাইলট স্কুলের বারান্দা ব্যবহার করতে হয়েছে।

সড়কে নূন্যতম চলাচল উপযোগী করার ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের স্বদিচ্ছার অভাব রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী সজল কুমার দত্ত পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘বালিয়াকান্দি জিসি টু মৃগী জিসি রোডের ১২.৩০ কিলোমিটার এবং বালিয়াকান্দি জিসি টু মধুখালী জিসির ৪.৫৩ কিলোমিটার দুইটি রোড আরসিআইপি প্রকল্পভুক্ত হয়েছে যা বিদেশি অর্থায়ানে হবে, বিধায় সময় লাগছে। সদরের সড়কের অচলাবস্থা দূর করতে জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা হবে। যা অক্টোবরের মধ্যেই আরম্ভ হবে।’

তিনি বলেন, ‘সড়ক সংস্কারের থেকে বড় চ্যালেঞ্জ ভারী যানবাহন চলাচলে লাগাম টানা। ভারী যানবাহনের কারণে কয়েক দিনেই নষ্ট হয়ে যায় সড়ক। এ কারণে কিছু পিলার স্থাপন করা হবে যাতে করে ১০ চাকার ট্রাকসহ ভারী যানবাহন চলাচল না করতে পারে।’

জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সড়কের বেহালদশার বিষয়টি স্বীকার করে এর আগে জানিয়েছিলেন, সড়কটি প্রকল্পভুক্ত হওয়ায় সময় লাগবে, তবে আশা করছি খুব শিগগিরই হবে। তবে ২০১৯ সালের মধ্যে হবে কি না এমনটি নিশ্চিত করতে পারেননি এই কর্মকর্তা।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, কয়েকদিন আগে সড়কটি সংস্কার করা হয়েছে কিন্তু ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে যা ছিল তাই হয়ে গেছে। আগামীকাল থেকেই সড়কটিতে মোটামুটি চলাচল উপযোগী করার মতো কাজ শুরু করব। তবে ভারী ট্রাকগুলোকে যদি নিয়ন্ত্রণ করা যায় তবে সড়কগুলো টেকসই হবে। তারপর প্রকল্পের কাজ হলে তো সব সমস্যার সমাধান সেটাও দ্রুতই হবে।

আমি এই সড়কগুলোকে উন্নয়নে প্রতিনিয়ত জোর চেষ্টা চালাচ্ছি। জনসাধারণের দুর্ভোগে আমিও কষ্ট পাচ্ছি বলেও তিনি জানান।

এইচআর

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও