স্রোতে ভেসে যাচ্ছে নদীর গতিপথ বদলানো সেই বাঁশের বেড়া

ঢাকা, ১৭ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

স্রোতে ভেসে যাচ্ছে নদীর গতিপথ বদলানো সেই বাঁশের বেড়া

মেহেদী হাসান মাসুদ, রাজবাড়ী ৭:৪০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০১৯

স্রোতে ভেসে যাচ্ছে নদীর গতিপথ বদলানো সেই বাঁশের বেড়া

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার শত শত বসত বাড়ি ও ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায়। নদী ভাঙ্গন রোধে স্বল্প খরচে অল্প সময়ে বাঁশের বেড়া প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। এতে পরিবর্তন হওয়ার কথা নদীর গতিপথ, কমবে ভাঙ্গন, বাড়বে ফসলী জমি। সরকারের এমন উদ্যোগে খুশি নদী পারের হাজার হাজার পরিবার। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ না করার কারণে নদীর তীব্র স্রোতে বাঁশের বেড়া ভেসে গেছে।

গত বছরের আগষ্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে পাঁচটি উপজেলায় ১৯টি পয়েন্টে ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন শুরু হয়। এতে শত শত বসতবাড়ি ও হাজার হাজার বিঘা ফসলী জমি নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। সবচেয়ে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়ন ও জঙ্গল ইউনিয়ন। এই এলাকা দুটিতে ভাঙ্গনরোধে স্বল্প খরচে বাঁশের বেড়া দ্বারা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। এতে কারে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে ভাঙনের ভয় দূর হয়। 

বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের জামসাপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে গড়াই নদীতে বাঁশের বেড়া দেওয়া হলেও কাঠের বল্লি দেওয়া হয়নি। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র স্রোতে বাঁশের বেড়া নদীতে ভেসে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। 


নারুয়া ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সাধারন সম্পাদক শেখ মহিদুল ইসলাম বলেনপ্রতিবছরই বন্যার সময় এই এলাকার প্রচুর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়। এই প্রকল্পটি সঠিকভাবে এবং দ্রুত সময়ে সম্পন্ন না হওয়ায় আমাদের কোনো উপকারেই আসে নি। বরং লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। কাঠের বল্লি না দেওয়ার কারণে বাঁধটি মজবুত হয়নি। শুনলাম এখন কাঠের বুল্লি এনেছে। এখন বাঁশ নেই তাহলে কাঠের বুল্লি গেড়ে কী লাভ হবে। 

নারুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুস সালাম মাষ্টার বলেন, গড়াই নদীর ভাঙ্গন প্রতিরোধসহ পানি প্রবাহ গতিরোধ করতে ব্যাম্বো ব্যান্ডেলিং পাইলট প্রকল্পটি ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেছিলাম। এখন লোকজন এসে অভিযোগ করেছে বাঁশের বেড়া পানির স্রোতে ভেসে গেছে। বিষয়টি নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটকে অবগত করা হয়েছে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ভাওয়াল কনস্ট্রাকশন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার জন্য একাধিকার ফোন করলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে নদী গবেষণা ইনিস্টিটিউট ফরিদপুরের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মতিয়ার রহমান বলেন, সারাদেশে নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকায়ই এমন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। এতে নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি পাবে ও ভাঙ্গন কমবে। সেই সাথে বাঁধের অপর পাড়ে পলি ও বালিমাটি পড়ে বাড়বে ফসলী জমি।


রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের জামসাপুর এলাকায় নদী ভাঙ্গনরোধে দেড় কিলোমিটার এলাকায় বাঁশের বেড়া প্রকল্পটিতে খরচ হবে মাত্র ৭৫ লক্ষ টাকা। যে কাজটির পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে দেখভাল করছে নদী গবেষণা ইনিস্টিটিউট। কাজটি সম্পন্ন করবে ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ভাওয়াল কনস্ট্রাকশন।

নদী গবেষণা ইনিস্টিটিউট ফরিদপুরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক মো: রেজাউল করিম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, এটি একটি পরীক্ষামূলক কাজ। ১ বছরের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্থ হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কাজ করে দিতে বাধ্য। ৩০ জুনের মধ্যে কাজ সমাপ্তের সময় নির্ধারণ ছিল। আমরা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে বারংবার পত্র দিয়ে প্রকল্পের কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করার কথা বলেছি।

তিনি কাঠের বল্লি না পুতার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এরই মধ্যে জানতে পেরেছি একটি বাঁশের বেড়ার ৭০ ফুট ভেসে গেছে। ঠিকাদারের ফাইনাল বিল আটকে দেওয়াসহ তার বিরুদ্ধে জরিমানা করা হতে পারে।

এমএইচএম/এএসটি

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও