যমুনার ভাঙনে শেষ সম্বল হারিয়ে দিশেহারা ফিরোজা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

যমুনার ভাঙনে শেষ সম্বল হারিয়ে দিশেহারা ফিরোজা

আব্দুল্লাহ আল নোমান, টাঙ্গাইল ৫:০২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০১৯

যমুনার ভাঙনে শেষ সম্বল হারিয়ে দিশেহারা ফিরোজা

যমুনা নদীর ভাঙনে শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার কষ্টাপাড়া গ্রামের বিধবা ফিরোজা বেওয়া এখন দিশেহারা।

স্বামীসহ দুই ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে সংসার ছিল তার। স্বামী রোশনালী ভ্যান চালাতেন। কিন্তু কয়েক মাস আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বামী।

একমাত্র উপার্জনক্ষম ভ্যানচালক স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। এরই মধ্যে যমুনার তীরে বাড়ি হওয়ায় নদীভাঙনের স্বীকার হয়েছেন ফিরোজা বেগম।

ফলে শেষ সম্বল হিসেবে বাড়ির ৮ শতাংশ জায়গার মধ্যে যে কুড়েঘরটি ছিল সেটিও গত ২০ দিনের যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। এতে চরম বিপদে পড়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বিধবা ফিরোজা বেওয়া। এখন কোথায় আশ্রয় নেবেন সেটিও জানা নেই তার।

কষ্টাপাড়ার ফিরোজা বেওয়ার মতো অনেক এমন করুণদশায় জীবনযাপন করছেন নদীর পাড়ে খোলা আকাশের নিচে।

উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া, ভালকুটিয়া ও খানুরবাড়ি এলাকায় যমুনার তীব্র ভাঙনে তিন শতাধিক পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়েছে। এছাড়া গাবসারা ও অজুর্না ইউনিয়নের বলরামপুর, তারাই, চর তারাই এলাকার ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

দেড় কিলোমিটার ভাঙনের মধ্যে মাত্র ৭৫ মিটার এলাকায় ভাঙনরোধে ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু হয়েছে।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্মকর্তাদের দাবি, ছোট ছোট আকারে প্রকল্প পাস করতে হচ্ছে। কারণ বড় প্রকল্প দিলে সেগুলো পাস হয় না। তাই ভাঙনরোধে কাজও ধীরগতিতে হচ্ছে।

এদিকে সোমবার যমুনা নদীর ভুঞাপুর অংশে পানি বিপদসীমার ১৬ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া টাঙ্গাইলের সব নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে তিনটি গ্রামে বন্যা থেকে রক্ষার জন্য রোববার রাতে গ্রামবাসী যমুনা নদী পাড়ে মাটি ও বস্তা ফেলেছে।

ভুঞাপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ পরিবর্তন ডটকমকে জানান, যমুনা নদীর গোবিন্দাসীর তিনগ্রামে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। গৃহহারাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তাদের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

টাঙ্গাইলের পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ ফেলানো হচ্ছে। নতুন করে আরো ৭৫ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলানোর কাজ শুরু হবে।

তিনি আরো বলেন, গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণের ফলে টাঙ্গাইলের যমুনা, এলেংজানী, পুংলী, ঝিনাই, বংশাই ও ধলেশ্বরীর পানিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ১৬ সে.মি. উপরে এবং ধলেশ্বরী নদীর দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিন ব্রিজের এখানে বিপদসীমার ২৫ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী বুধবার পর্যন্ত এসব নদীতে পানি বৃদ্ধি পাবে। এরপর পানি কমতে পারে।

এইচআর

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও