টাঙ্গাইলে মধুপুর গড়ে বৈচিত্র্যময় ভেষজ উদ্যান

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

টাঙ্গাইলে মধুপুর গড়ে বৈচিত্র্যময় ভেষজ উদ্যান

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ৬:৩১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৯

টাঙ্গাইলে মধুপুর গড়ে বৈচিত্র্যময় ভেষজ উদ্যান

দেশের অন্যতম লালমাটির শালবন টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়। এ বনের প্রধান বৃক্ষ শাল-গজারী। শাল-গজারী, বহেরা, গাদিলা, গামারী, পিতরাজ, বানরনরী (সোনালু), কানাইডিঙ্গা, আমলকি, আনাইগোটা থেকে শুরু করে নানা প্রজাতির বৃক্ষ রয়েছে এ বনে। মধুপুর বনের ঐতিহ্য ও গড় এলাকার মানুষের ভেষজের প্রয়োজনীয়তার কথা খেয়াল রেখে বন বিভাগ গড়াঞ্চলের লাল মাটির চাড়ালজানী বিটে ২০ হেক্টর জমিতে গড়ে তুলেছে বৈচিত্র্যময় ভেষজ উদ্যান।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মধুপুর গড়াঞ্চলে বসবাসরত মানুষের ভেষজ চিকিৎসার জন্য বিলুপ্তপ্রায় ভেষজ উৎপাদন বৃদ্ধি ও সংরক্ষণের জন্য ২০০৩ সালের ৪ জুলাই মধুপুরের চাড়ালজানী রেঞ্জের বেরীবাইদ মৌজার জলছত্র এলাকায় করা হয় ভেষজ উদ্যান। টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের পাশে গড়ে তোলা এ বাগানের নাম দেওয়া হয়েছে ভেষজ উদ্যান মালবিকা।

ভেষজ উদ্যান শুরু করা হয় ৩ হেক্টর জমিতে। উদ্যানের গাছ বৃদ্ধি ও গাছের অবস্থা ভাল হওয়ায় ২০০৩-২০০৪ সালে ৪ হেক্টর জমিতে ভেষজ গাছ লাগানো হয়। এভাবে ২০০৪-২০০৫ সালে ৬ হেক্টর ও ২০০৫-২০০৬ সালে ৭ হেক্টর ভেষজ বাগান করা হয়। সব মিলিয়ে এখন ২০ হেক্টর জমিতে গড়ে উঠেছে এ ভেষজ উদ্যান।

এ উদ্যানের ঔষধীগুণ সম্পন্ন ভেষজ উদ্ভিদের মধ্যে আমলকি, হরিতকি, বহেরা, নিম, অর্জুন, নিশিন্দা, মহুয়া, নাগেশ্বর, উলুটকম্বল, বকুল, সোনালু, চন্দন, আগর, আমড়া, জলপাই, খাড়াজোড়া, পিতরাজ, পেয়ারা, জাম, তেঁতুল, বেল, কালমেঘ, বাসক, হাতিশুর, চম্পাফুল, পিপুল, আকন্দ, ঘৃতকাঞ্চন, কেউকলা, মেহেদী, নয়নতারা, শতমূল, চাপালিশ, অশোক, শেফালী, চালতা, সর্পগন্ধা, পাথরকুচি, তুলসি, ধুতরা, তেজপাতা, জাম্বুরা, ঢাকি জাম, কুম্বি, ঢেউয়া, গর্জন, হৈমন্তী, কন্যারী, পুত্রঞ্জীব, গোলাপ জাম, দুধক্রুচ, আতা, কদবেল, কামরাঙ্গা, বার্মাশিমূল, লটকন, কালেন্ড্রা, সিভিট, কানাইডিঙ্গা, পান, খয়ের, অনন্তমূল, গন্ধাসাগর, আগুনসর, নীলমনি, অড়হড়সহ শতাধিক প্রজাতির ফল ও ভেষজ উদ্ভিদ রয়েছে।

জানা যায়, টাঙ্গাইল- ময়মনসিংহ সড়কের পূর্ব পাশে এ মালবিকা ভেষজ উদ্যান। মধুপুরের লাল মাটিতে এ উদ্যানে নানা ভেষজ বৃক্ষে সজ্জিত। সবুজ শ্যামলে ভরা।  হরেক প্রজাতির ভেষজের কারণে উদ্যানে সৌন্দর্য্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। ভেষজ বৃক্ষগুলো বড় হয়েছে। বৃক্ষগুলো ফুল ও ফল দেয়া শুরু করেছে। উদ্যানে প্লট আকারে প্রজাতি ভেদে বাগান করা হয়েছে। বাগানের উত্তর ও পশ্চিম পাশে ড্রেন খনন করা হয়েছে। এ বাগানের ফলে স্থানীয়রা সুবিধা পাচ্ছে।

ভেষজ বাগান এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানালেন, তারা এ উদ্যানের ফুল, ফল, লতা, পাতা, ছাল, বাকল প্রভৃতি নিয়ে কবিরাজী ঔষুধ তৈরি করে খাচ্ছেন। এছাড়াও আশপাশের উপজেলার মানুষ এ বাগানের সুবিধা নিতে ছুটে আসেন। অনেকে আবার বীজ সংগ্রহ করে জাত সংরক্ষণ করছেন। এভাবে স্থানীয় জনগণ ও কবিরাজরা মালবিকার সুফল পাচ্ছেন বলে স্থানীয়রা জানালেন।

চাড়ালজানী রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহ্ জালাল বলেন, ভেষজ ঔষধ কবিরাজদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভেষজ ঔষধে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। বিষমুক্ত ও প্রাকৃতিকভাবে ভেষজ উৎপাদিত হয় এ বাগানে। এ বাগানের ফলে এ এলাকার মানুষেরা উপকৃত হচ্ছে। এ বাগান সংরক্ষিত থাকলে যুগ-যুগ ধরে এ এলাকার মানুষেরা এর সুফল পাবে। ভেষজ বাগানের গুণাগুণ আবহাওয়ার সাথে মিশ্রিত হয়ে স্বাস্থ্যের জন্য উপকার বয়ে আনে।

তিনি আরও বলেন, চাড়ালজানী রেঞ্জের আয়তন ৫৮৮০.৪৬ হেক্টর। প্রাকৃতিক, সামাজিক, ভেষজ উদ্যান ছাড়াও বেত-৬৫ একর, বাঁশ ২৬ হেক্টর, উটলট ৬৪০.৪৮ হেক্টর, আগর ২৭.৫ হেক্টর ও শাল কপিস ২৫ হেক্টর রয়েছে। এবছর ১০ হেক্টর বনায়ন করা হবে। এর মধ্যে চাড়ালজানী বিটে ৫ হেক্টরে বনায়ন সম্পন্ন হয়েছে। মহিষমারা বিটে বাকি ৫ হেক্টর বনায়ন করা হবে।

একজন বন প্রহরী, একজন অফিস সহকারীসহ স্বল্প জনবল নিয়ে বিশাল আয়তনের রেঞ্জের দায়িত্ব পালন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এ জন্য তিনি জনবল বাড়ানোর দাবি জানান।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ খান বলেন, প্রতি বছরই মধুপুর বনে ৫ থেকে ১০ হেক্টর জমিতে ভেষজ উদ্ভিদের বাগান করা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত আমাদের এক প্রকল্প রয়েছে। চলমান এই প্রকল্পের আওতায় কমিউনিটি ফরেস্ট ওয়ার্কার নিয়োগ করা হয়েছে। এর ফলে ওয়ার্কাররা বাগান পাহারা দিচ্ছে, এতে বাগানের ক্ষয়ক্ষতি কম হচ্ছে। এতে গাছের ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বনে ভেষজ উদ্ভিদের সংখ্যা যাতে বৃদ্ধি করা হয় এ ব্যাপারে আমারা কাজ করছি। 

এএএন/এএসটি

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও