টাঙ্গাইলে রেলসেতুতে বাঁশ-কাঠ!

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

টাঙ্গাইলে রেলসেতুতে বাঁশ-কাঠ!

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ১২:৪৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ০২, ২০১৯

টাঙ্গাইলে রেলসেতুতে বাঁশ-কাঠ!

টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত রেললাইনের বেশকিছু সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

এসব সেতুতে লোহার নাটের পরিবর্তে বাঁশের গোজ ও কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। কাঠের স্লিপারও নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত রেললাইনে ছোট-বড় ১৩২টি সেতু রয়েছে। ১৯৯৮ সালে এগুলো নির্মাণ করা হলেও পরে আর কোনো সংস্কারকাজ হয়নি।

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার জোকারচর, সল্লা, হাতিয়া, আনালিয়াবাড়ীতে কিছু স্থানে সেতুর সঙ্গে লাইন আটকানোর ক্লিপ নেই দীর্ঘদিন। অনেক অংশে লোহার নাট-বল্টু দিয়ে আটকানোর কথা থাকলেও বাঁশের গোজ বা কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। অনেকস্থানে লোহার নাট বা বাঁশের গোজও পাওয়া যায়নি।

সেতুর কাঠের স্লিপার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নাটগুলো নড়াচড়া করে। হাত দিয়ে একটু টানলেই উঠে আসে। অনেক জায়গায় লোহার পাতও খুলে গেছে।

পুংলি রেলসেতুতে গিয়ে দেখা যায়, যে পিলারের ওপর সেতুটি দাঁড়িয়ে, তার মূল নাটগুলো নেই। সেখানে বাঁশ ও কাঠ দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস ছামাদ বলেন, ‘রেলসেতুর এমন করুণ হাল আগে দেখিনি। কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো সময় দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘এই রেললাইন যখন চালু হয়, তখন শব্দ ছিল না। এখন এমন শব্দ হয় যেন রেললাইন ভেঙে পড়ে যাচ্ছে।’

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু রেলস্টেশন মাস্টার আব্দুল মান্নান পরিবর্তন ডটকমকে জানান, বিষয়টি তার জানা নেই। যেখানে লোহা প্রয়োজন, সেখানে বাঁশ/কাঠ ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

জয়দেবপুর বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী নাজিব কায়সার বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় নাট চুরি হয়ে যায়। স্টক সীমিত থাকায় জানমাল রক্ষার্থে জরুরি ভিত্তিতে বাঁশ বা কাঠ ব্যবহার করা হয়। পরে সুযোগ অনুযায়ী লোহার নাট লাগানো হয়।’

তিনি দাবি করেন, ‘ঠেকা কাজ চালাতে রেলসেতুতে বাঁশ ব্যবহার করা হয়। এতে ঝুঁকির কিছু নেই।’

এএএন/আইএম

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও