রনদা প্রসাদ হত্যার রায় আজ

ঢাকা, ২৩ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

রনদা প্রসাদ হত্যার রায় আজ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ১১:২০ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৭, ২০১৯

রনদা প্রসাদ হত্যার রায় আজ

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা ও তার ছেলেসহ সাতজনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার। গতকাল বুধবার বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

এ মামলার একমাত্র আসামি একাত্তরে শান্তিরক্ষা কমিটির সভাপতি বৈরাটিয়া পাড়ার আবদুল ওয়াদুদের ছেলে রাজাকার মাহবুবুর রহমান (৭০)।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত মির্জাপুর শান্তি কমিটির সভাপতি ছিলেন বৈরাটিয়া পাড়ার আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে আসামি মাহবুবুর রহমান। সে সময় মাহবুব ও তার ভাই আব্দুল মান্নান রাজাকার বাহিনীতে ছিলেন।

২০১৬ সালের ১৮ এপ্রিল মামলাটির তদন্ত শুরু হলে ট্রাইব্যুনাল থেকে মাহবুবের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়। ওই বছরের নভেম্বরে গ্রেফতার করা হয় তাকে। তখন থেকে তিনি ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন

উপমহাদেশের প্রখ্যাত দানবীর, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, নারী শিক্ষা ও নারী জাগরণের অগ্রপথিক দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা। তার জন্ম টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। আজীবন আর্ত-মানবতার সেবায় কাজ করেছেন তিনি। টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেছেন একাধিক শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানসহ দাতব্য চিকিৎসালয়। মহান মুক্তিযুদ্ধে রয়েছে তার গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা।

তিনি তার প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালে মুক্তিযুদ্ধের ময়দানে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়েছেন চিকিৎসা। পাকিস্থানি হায়েনাদের থাবায় আহত নির্যাতিত নিরীহ বাঙালিদের খুঁজে খুঁজে এনে দিয়েছেন চিকিৎসা এবং আশ্রয়। এ কারণে দানবীর রনদা প্রসাদ সাহাকে হত্যার পরিকল্পনা করে পাকিস্থানি হয়েনারা। ১৯৭১ সালের ৭ মে স্থানীয় রাজাকার মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে রাজাকাররা হত্যাযজ্ঞ চালায় গোটা মির্জাপুরে। তারা সেদিন রনদা প্রসাদ সাহাকে ধরতে আক্রমণ করে তার বাড়ি ও হাসপাতালসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে। তাকে ধরতে না পেয়ে রাজাকার বাহিনী জালিয়ে দেয় কয়েকটি গ্রাম। হত্যা করে বহু বাঙালিকে। রাজাকার মাহবুবুর রহমান ৭ মে মধ্যরাতে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ২০-২৫ জন সদস্যকে নিয়ে রণদা প্রসাদ সাহার বাসায় অভিযান চালায়। অভিযানে রণদা প্রসাদ সাহা, তার ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহা, রণদা প্রসাদের ঘনিষ্ঠ সহচর গৌর গোপাল সাহা, রাখাল মতলব ও রণদা প্রসাদ সাহার দারোয়ানসহ সাতজনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে সবাইকে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এর পর তাদের মরদেহ আর পাওয়া যায়নি।

রনদা প্রসাদ সাহা আজীবন আর্ত-মানবতার সেবায় কাজ করে গেছেন। নারী শিক্ষা ও জাগরণের জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন একাধিক প্রতিষ্ঠান। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কাজ করেছেন স্বাধীনতার পক্ষে। স্থানীয় রাজাকার মাহবুবুর রহমান পাকিস্তানি হায়েনাদের সহায়তায় রনদা প্রসাদ সাহা ও তার পুত্রসহ সহকর্মীদের হত্যা করে।

রনদার পৈত্রিক নিবাস টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। সেখানে তিনি একাধিক শিক্ষা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা এবং এলাকাবাসী এ হত্যা মামলার আসামির মৃত্যুদণ্ডের দাবি করেন। একই সাথে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল তাদেরও শাস্তির দাবি করেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। 

ভাষা সৈনিক ও কুমুদিনী ট্রাস্টের পরিচালক প্রতিভা মুৎসুদ্দি বলেন, রনদা প্রসাদ সাহা তার জীবনে সব কিছু দিয়ে দিয়েছেন। নিজে নিজে কিছু ভোগ করেননি, সব মানুষকে দিয়ে দিয়েছেন। তিনি অসহায় এবং গরীবদেরও বিনা পয়সায় স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছেন। রনদা প্রসাস সাহা তার একমাত্র ছেলেসহ অনেকেই পাকিস্তানি দোশররা হত্যা করেছে। আমরা এর বিচার চেয়েছিলাম। আমরা অনেকেই সাক্ষীও দিয়েছি। আমরা চাই, এ হত্যা মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি হোক। যাতে আর কেউ এ ধরনের পাশবিক কাজ করতে সাহস না পায়।

এএএন/আরপি

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও