বাঁচানো গেল না সেই ফুলনকে

ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

বাঁচানো গেল না সেই ফুলনকে

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৬, ২০১৯

বাঁচানো গেল না সেই ফুলনকে

প্রায় তেরো দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে দগ্ধ নরসিংদীর কলেজছাত্রী ফুলন রানী বর্মণ। আজ বুধবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

ফুলন (২২) নরসিংদী পৌর এলাকার বীরপুর মহল্লার যোগেন্দ্র চন্দ্র বর্মণের মেয়ে। গত বছর নরসিংদীর উদয়ন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন তিনি। তবে এর পর তিনি আর কোথাও ভর্তি হননি।

গত ১৩ জুন রাতে বাড়ির কাছেই তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ওইদিন রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

ওই সময় চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তার শরীরের ২০ ভাগ পুড়ে গেছে।

এদিকে, ফুলনের বাবা যোগেন্দ্র চন্দ্র বর্মণ আজ সকালে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ফুলন আজ ভোরে ঢাকায় মারা গেছে। তার লাশ বাড়িতে আনা হবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া বলেন, আজ সকাল ৬টায় ফুলন রানী মারা গেছেন। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, পুলিশ ও ফুলনের পরিবারের সদস্যরা ঘটনার পর জানান, রাতে সাড়ে ৮টার (১৩ জুন দিবাগত রাত) দিকে মামার সাথে দোকানে কেক আনতে যায় ফুলন। মামা কেক কিনে দিয়ে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। ফুলন কেক নিয়ে বাড়ির আঙ্গিনায় পৌঁছলে অজ্ঞাত দুই দুর্বৃত্ত তার হাত মুখ চেপে ধরে পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। পরে কেরোসিন ঢেলে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

এর পর তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন (বিপিএম) ও সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দুজ্জামানসহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তপন মল্লিক বলেন, হঠাৎ চিৎকার শুনে ঘর থেকে বের হয়ে দেখি, একটা মেয়ের শরীরে আগুন জ্বলছে। আগুন জ্বলছে আর সে ঘুরছে। পাশে মহিলারা দেখছে। পরে একটি ভেজা চট নিয়ে তার শরীরে চাপা দিয়ে আগুন নেভানো হয়।

অপর প্রত্যক্ষদর্শী সঞ্জিত বর্মন বলেন, আগুন লাগার পর ফুলন চিৎকার করছিল। ওই সময় তার মাথার সকল চুল পুড়ে যায়। এবং শরীরের পেছনের দিকে বেশি পুড়েছে। আগুন নিভিয়ে তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তারা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে পাঠায়। তার শরীরের ২০ শতাংশ পুড়েছে বলে চিকিৎসকরা আমাদের জানিয়েছেন।

অপর একটি সূত্রে জানা যায়, দগ্ধ ফুলনের কাকাতো ভাই সুমনের শ্যালক সজিব ফুলনকে পছন্দ করতো। গত দুই বছর যাবৎ ফুলনকে প্রেম প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। কিন্তু ফুলন এতে রাজি ছিল না। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এ আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করা হয়।

পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন বলেন, মেয়েটি কেক নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দাহ্য পদার্থ দিয়ে কে বা কাহারা তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি কেরোসিন তেলের বোতল, দিয়াশলাই, দগ্ধ ছাত্রীর ওড়না ও চুলসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছি।

ওই সময় তিনি আরো বলেন, নেপথ্যের কারণ ও জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করে দিয়েছি। যারা ঘটনার সাথে জড়িত দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। সেজন্য তিনি তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান।

ওএস/আরপি

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও