মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলায় সাবেক এমপি রানা আদালতে

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ | ২ কার্তিক ১৪২৬

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলায় সাবেক এমপি রানা আদালতে

আব্দুল্লাহ আল নোমান, টাঙ্গাইল ২:৩৪ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০১৯

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলায় সাবেক এমপি রানা আদালতে

টাঙ্গাইল চাঞ্চল্যকর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদ হত্যা মামলার বাদিপক্ষের আরো ২ জনের  স্বাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এই হত্যা মামলার অন্যতম আসামি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সরকার দলীয় সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানার উপস্থিতিতে এ স্বাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা অনুষ্ঠিত হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ বৃহস্পতিবার আদালত কর্তৃক মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমদ হত্যা মামলার স্বাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। সেই অনুযায়ী কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে টাঙ্গাইল কারাগার থেকে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি রানাকে টাঙ্গাইলের বিচারিক আদালতে আনা হয়। পরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক রাশেদ কবির এ চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন। এরপর ডা. আশরাফ আলী ও পাবলিক আব্দুল আওয়াল স্বাক্ষ্য দেন এবং পরে তাদের জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। পরে আদালতের বিচারক কার্যক্রম শেষ করলেও পরবর্তী তারিখ জানায়নি।


এ নিয়ে আদালতে মোট ১৬ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত হলো। এর আগে বুধবার কাশিমপুর কারাগার থেকে রানাকে টাঙ্গাইল কারাগারে আনা হয়। 

এর আগে রানার অসুস্থতার কারণে তিনবার সাক্ষ্যগ্রহণ পেছায়। 

প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইলে যুবলীগের দুই নেতা হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। এর আগে ফারুক হত্যা মামলারও ৬ মাসের জামিন দেয় হাইকোর্ট।

দীর্ঘ ২২ মাস পলাতক থাকার পর রানা গত ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর  টাঙ্গাইলের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বেশ কয়েক দফা উচ্চ আদালত ও নিম্ন-আদালতে আবেদন করেও জামিন পাননি তিনি। 

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

প্রথমে মামলাটি টাঙ্গাইল মডেল থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে এবং ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রানা (তখন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন) ও তার তিনভাইসহ মোট ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। 

তদন্ত চলাকালে ২০১৪ সালের ১১ আগস্ট সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানার ঘনিষ্ঠ কর্মী আনিসুর রহমান রাজা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে তিন দফায় মোট ১৫ দিন রিমান্ড শেষে ওই বছরের ২৭ আগস্ট টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদত হোসেনের নিকট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। অপর আসামি মোহাম্মদ আলী গ্রেপ্তার হন একই বছরের ২৪ আগস্ট। তিনি দশদিনের রিমান্ড শেষে ৫ সেপ্টেম্বর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নাজমুন নাহারের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

উভয় আসামির জবানবন্দিতে ফারুক আহমদ হত্যাকাণ্ডে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক এই এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার ছোট ভাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করলে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে খান পরিবারের চার ভাইয়ের জড়িত থাকার কথা প্রথম প্রকাশ পায়।

এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার সঙ্গে আমানুর রহমান খান, রানার অপর ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তখনকার মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি ও টাঙ্গাইল জেলা বণিক সমিতির সভাপতি জাহিদুর রহমান খান কাকন যুক্ত বলে মোহাম্মদ আলী তার জবানবন্দিতে প্রকাশ করেন।

গত ২০১৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। বর্তমানে মামলার স্বাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসন থেকে রানাকে বাদ দিয়ে তার পিতা আতাউর রহমান খানকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। আতাউর রহমান খান দলের মনোনয়ন পেয়ে এবাবের একাদশ সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী হন।

এএসটি/

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও