লিচু খেতে চাওয়ায় দুই মেয়েকে হত্যা করলেন বাবা

ঢাকা, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

লিচু খেতে চাওয়ায় দুই মেয়েকে হত্যা করলেন বাবা

নরসিংদী প্রতিনিধি ৭:২৮ অপরাহ্ণ, মে ২৫, ২০১৯

লিচু খেতে চাওয়ায় দুই মেয়েকে হত্যা করলেন বাবা

অর্থকষ্টে ভরণ-পোষণ দিতে না পেরে নরসিংদীতে দুই মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন শফিকুল ইসলাম নামে এক বাবা। আটকের পর পুলিশের কাছে এ হত্যার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।

শনিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নরসিংদীর পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহাম্মেদ।

নিহতরা হলো- মনোহরদী চালাকচর গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে তাইন (১১) ও তাইবা (৪)। আটক শফিকুল ইসলাম (৩৮) একটি পোশাক কারখানার নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কাজ করেন।

পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহাম্মেদ জানান, শুক্রবার রাতে নরসিংদীতে লঞ্চ টার্মিনালের বাথরুম থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর থেকে তদন্তে নামে পুলিশ। প্রথমে নিহত শিশুদের বাবা শফিকুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।

পুলিশ সুপার জানান, ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে মনোহরদী গ্রামের বাড়ি থেকে দুই মেয়েকে শিবপুর নিয়ে আসেন বাবা শফিকুল ইসলাম। চিকিৎসক না থাকায় তিনি তার সন্তানদের নরসিংদী লঞ্চ টার্মিনালে ঘুরতে নিয়ে যান। ওই সময় তার ছোট মেয়ে লিচু খেতে চায়। কিন্তু তার কাছে পর্যাপ্ত টাকা ছিল না, তার ওপর সামনে ঈদ। সংসারের খরচ ও সন্তানের জামা-কাপড় দিতে হবে। এসব ভেবে শফিকুল হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে যান। প্রথমে ছোট মেয়েকে লঞ্চ টার্মিনালের বাথরুমে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে বড় মেয়েকে একই কায়দায় হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

এদিকে পরিবারের সদস্যদের দাবি, শফিকুল ইসলাম প্রায়ই মানসিকভাবে অসুস্থ থাকতেন। ১০/১১ বছর আগে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে শফিকুল ইসলামকে দুই তিনমাস আবদ্ধ করে রাখা হয় এবং মানসিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এরপর সুস্থ হয়ে সে বিয়ে করলে দুই মেয়ের জন্ম হয়। সম্প্রতি তার মধ্যে আবারও অভাব অনটন নিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীনতার বিষয়টি লক্ষ্য করে পরিবার।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, প্রাথমিকভাবে শফিকুল ইসলামকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে মনে হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কেউ মামলা করেনি। পরিবার মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।

এইচআর

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও