ফরিদপুরে চিকিৎসক-নার্সের অবহেলায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ

ঢাকা, রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯ | ২ আষাঢ় ১৪২৬

ফরিদপুরে চিকিৎসক-নার্সের অবহেলায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি ১০:৪৫ অপরাহ্ণ, মে ২৩, ২০১৯

ফরিদপুরে চিকিৎসক-নার্সের অবহেলায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সেবিকার অবহেলায় আব্দুর রহমান নামে ১১ মাস বয়সের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ করেছে তার পরিবার ও হাসপাতালে ভর্তি থাকা অন্য রোগীর স্বজনেরা।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৫ মিনিটে মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানার গোপালগঞ্জ গ্রামে তৈয়বুর রহমানের ছেলেকে নিয়ে তার মা ফাহিমা বেগম, চাচা অহিদুলসহ স্বজনেরা ডায়রিয়াজনিত রোগে জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে।

সেসময় সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সামিয়া সুলতানা আব্দুর রহমানকে হাসপাতালে ভর্তির নির্দেশের সাথে চিকিৎসাপত্র দিয়ে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে পাঠান। সেখানে দুপুর আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

চাচা অহিদুল অভিযোগ করে বলেন, ২২ মে সকালে জ্বর ও ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়। এরপর ২৩ মে ফরিদপুরে ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল হাসপাতালে আনা হলে সেখান থেকে জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তিনি বলেন,  হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে চিকিৎসক ভর্তির নির্দেশ দিয়ে ওয়ার্ডে পাঠালে সেখানে কর্তব্যরত নার্স গোলাপী বেগম চিকিৎসাপত্র দেখে বাইরে থেকে ওষধ কিনে আনতে বলেন।

এরপর ওষুধ নিয়ে আসলে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ডাকাডাকি করেও ওই সেবিকাকে দিয়ে ওষধের কোনো প্রয়োগ করানো সম্ভব হয়নি। যতবার ডেকেছি বলেছে আসছি আপনি যান আর আসেনি। এভাবে এক রকমের বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয় আমার ভাতিজার। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

শিশুটির স্বজনেরা জানান, রোগীর অবস্থা যখন আমাদের কাছে খারাপ মনে হচ্ছিল আমরা দেখছিলাম আগের তুলনায় ওর বেশি শ্বাসকষ্ট হচ্ছে তখন পুরো হাসপাতাল ঘুরে অনেক হাতে পায়ে ধরেও একজন চিকিৎসক পাওয়া যায়নি।

একপর্যায়ে সেবিকা জানান, চিকৎসকরা নামাজে গেছেন। তারপর নামাজের সময় অতিক্রম হয়ে গেলেও চিকিৎসকরা না আসায় আবারো সেবিকাদের কাছে গেলে বলেন স্যাররা এখন বাড়ি চলে গেছেন। এখন আর কেউ আসবেন না। এমন পরিস্থিতিতে সেবিকার সাথে আমাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

তখন সেবিকা গোলাপী বেগম চিকিৎসকের সাথে ফোনে কথা বলে জানান, স্যার বলছে ঢাকায় রেফার করতে। এরই মধ্যে শিশুটির অবস্থা আরো অবনতি হলে সেবিকারা তাকে অক্সিজেন দেন তার ৫ মিনিটের মধ্যেই শিশু আবদুর রহমানের মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিসক গনেশ আগরওয়াল বলেন, দুপুর দেড়টায় নামাজ ও দুইটায় শিফট্ পরিবর্তনের কারণে ওই সময়ের মধ্যে কিছুটা চিকিৎসক সংকট থাকে। তবে এই রোগীর চিকিৎসাপত্র লিখে দিয়েই চিকিৎসক গিয়েছিলেন। কিন্তু সেবিকা গোলাপীর গাফলতির মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। যাচাই করে দেখছি। অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. এনামুল হক জানান, বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, কোনো রোগী বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না, এ ব্যাপারে কঠোর নিদের্শনা দেয়া আছে।

এইচআর