ধর্ষণের শিকার শতবর্ষীর ডাক্তারি পরীক্ষা, আসামি আদালতে

ঢাকা, ১৭ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

ধর্ষণের শিকার শতবর্ষীর ডাক্তারি পরীক্ষা, আসামি আদালতে

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ৪:৪০ অপরাহ্ণ, মে ২৩, ২০১৯

ধর্ষণের শিকার শতবর্ষীর ডাক্তারি পরীক্ষা, আসামি আদালতে

টাঙ্গাইলের মধুপুরে শতবর্ষী এক বৃদ্ধাকে (১৩০) ধর্ষণের ঘটনায় ওই বৃদ্ধার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ হেফাজতে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

অপরদিকে  ওই বৃদ্ধার ডাক্তারি পরীক্ষার সম্পন্ন হওয়ার পর দুপুরেই তাকে টাঙ্গাইল আদলাতে নেয়া হয়েছে এবং আসামিকেও আদালতে নেয়া হয়।

এর আগে ওই বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলার আসামি ধর্ষক সোহেল মিয়া (১৫)কে গ্রেফতার করে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার আংগারিয়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সোহেল মিয়া ওই এলাকার তোতা খার ছেলে।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নারায়ণ চন্দ্র সাহা পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ভিকটিমকে পুলিশ আনার পরপরই তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। পরে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল জানা যাবে। বর্তমানে ভিকটিম ওই বৃদ্ধা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মধুপুর থানার এসআই জুবাইদুল হক পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ভিকটিম ওই বৃদ্ধার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্নের পর আসামি সোহেল মিয়াকে টাঙ্গাইল আদালতে নেয়া হয়েছে। সেখানে সোহেল ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেবেন। এছাড়া ওই বৃদ্ধা ২২ ধারায় জবানবন্দী দেবেন। গ্রেফতারকৃত সোহেল মিয়া পুলিশের কাছে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। আমার জানা মতে এতো বৃদ্ধ বয়সে ধর্ষণের শিকার কেউ হয়নি।

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক কামাল পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ওই বৃদ্ধার ছেলে বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা করার পর বুধবার রাতেই অভিযুক্ত সোহেল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। মামলায় বৃদ্ধার বয়স উল্লেখ্য করা হয়েছে ১৩০ বছর।

পরিবারের লোকজনও বলেন, তার বয়স ১৩০ বছর হবে। আমরা এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের দাবি করছি। 

জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর কিশোর সোহেল মিয়া ওই বৃদ্ধার ঘরে ঢুকে মুখ বেঁধে তাকে ধর্ষণ করে। ওই বৃদ্ধার বাড়ি উপজেলার ফুলবাগচালা ইউনিয়নে। তিনি বয়সের কারণে অন্ধ হয়ে গেছেন। চলাফেরা ও কথাও ঠিকভাবে করতে পারেন না। এ রোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বৃদ্ধা খুব কাঁদছিলেন। ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিলেন না। সোহেলকে বারবার বলছিলেন আমাকে ছেড়ে দাও। আমি রোজা রাখছি। এই বয়সে যৌন নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রায় মরার মতোই হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সম্মানের ভয়ে ভুক্তভোগী পরিবার তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালেও নেয়নি। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এইচআর

আরও পড়ুন...
টাঙ্গাইলে বৃদ্ধার ধর্ষক সোহেল গ্রেফতার

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও