চলন্ত বাসে গৃহবধূ গণধর্ষণে চারজনের যাবজ্জীবন

ঢাকা, সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯ | ২ আষাঢ় ১৪২৬

চলন্ত বাসে গৃহবধূ গণধর্ষণে চারজনের যাবজ্জীবন

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ৩:৫০ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০১৯

চলন্ত বাসে গৃহবধূ গণধর্ষণে চারজনের যাবজ্জীবন

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে চলন্তবাসে এক পোশাককর্মী গৃহবধূকে গণধর্ষণ ঘটনার মামলায় চার পরিবহন শ্রমিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সেইসঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত।

বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বেগম খালেদা ইয়াসমিন এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন বিনিময় পরিবহন বাসের চালক জেলার ধনবাড়ী উপজেলার ফকিরবাড়ী গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে হাবিবুর রহমান নয়ন (২৮), হেলপার একই উপজেলার দয়ারামবাড়ী গ্রামের আরশেদ আলীর ছেলে আব্দুল খালেক ভুট্ট (২৩) ও চতুটিয়া গ্রামের মৃত কছিম উদ্দিনের ছেলে মো. আশরাফুল (২৬) এবং সুপারভাইজার নিজবর্নি গ্রামের মৃত আব্দুল মোতালেবের ছেলে রেজাউল করিম জুয়েল (৩৮)।

রায় দেয়ার সময় আদালতে তিন আসামি উপস্থিত ছিলেন। অপর এক আসামি রেজাউল করিম জুয়েল আদালত থেকে জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছেন।

গণধর্ষণের শিকার ওই নারী গাজীপুরের চন্দ্রায় একটি পোশাক প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল কালিয়াকৈরের মৌচাকে কর্মরত এক পোশাককর্মী টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে ভোর পাঁচটার দিকে ‘বিনিময় পরিবহনের’ একটি বাসে কালিযাকৈরের উদ্দেশে রওনা দেন। এ সময় বাসে যাত্রী না থাকার সুযোগে বাসটি কিছুদুর যাওয়ার পর সুপারভাইজার বাসের জানালা দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে গাড়ির চালক হাবিবুর রহমান নয়ন তাকে ভয়ভীত দেখিয়ে পেছনের ছিটে নিয়ে ধর্ষণ করে। পর্যায়ক্রমে বাসের সুপারভাইজার রেজাউল করিম ও হেলপার ভুট্ট পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে বাসটি ঢাকা না গিয়ে টাঙ্গাইল ময়মনসিংহ রোডের মধুপুরের একটি ফাঁকা জায়গায় ওই নারীকে নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। ওই নারী তখন মধুপুর বাসস্ট্যান্ড এসে তার স্বামীকে জানালে স্বামী তাকে কালিয়াকৈর বাসস্ট্যান্ড আসতে বলেন। পরে তিনি কালিয়াকৈর বাসস্ট্যান্ড গিয়ে স্বামীকে বিস্তারিত জানালে স্বামী তাকে টাঙ্গাইল এনে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

পরে পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে ওইদিনই গ্রেফতার করে। ধর্ষিতার স্বামী বখতিয়ার বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই নারী আশরাফুল নামের আরো একজনের নাম উল্লেখ করে আদালতে জবানবন্দী দেন।

পুলিশ তদন্ত শেষে চারজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। অপর ছয়জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় অভিযোগ থেকে তাদের অব্যহতির সুপারিশ করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি নাসিমুল আক্তার। তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত তিনজন ওই সময় আদালতে স্বীকাররোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছিলেন। সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত এ রায় দেন। আমরা এ রায়ে সন্তষ্ট।
তিনি বলেন, মামলার বাদীসহ ৯ জন আদালতে সাক্ষী দেন। প্রায় তিন বছর মামলার বিচারকার্য চলার পর রায় দিলেন আদালত।

আসামি পক্ষের আইনজীবী শামীম চৌধুরী দয়াল বলেন, আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট নই। এ রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।

এইচআর

আরও পড়ুন...
চলন্ত বাসে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, চারজনের যাবজ্জীবন