ফরিদপুরে আ’লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে প্রকৌশলীকে পেটানোর অভিযোগ

ঢাকা, রবিবার, ১৬ জুন ২০১৯ | ২ আষাঢ় ১৪২৬

ফরিদপুরে আ’লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে প্রকৌশলীকে পেটানোর অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি ১০:১৫ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০১৯

ফরিদপুরে আ’লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে প্রকৌশলীকে পেটানোর অভিযোগ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সমরজিত ঘরামীসহ ৩ জন অফিস সহকারীকে পিটিয়ে আহত ও অফিস ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে।

রোববার সকালে এ খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এসময় পুলিশ সেখান থেকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহর রাজনৈতিক সচিব ও সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল হক অপুকে আটক করে।

মারামারির ঘটনায় আরো আহত হন অফিস সহকারী সেক মো. সেলিমুজ্জামান, মো. সাঈদুল ইসলাম ও বলাই চন্দ্র দাস। স্থানীয় জনতা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রকৌশলী সমরজিত ঘরামীকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা হাসপাতালে চিকিৎসা দেন।

এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমরজিত ঘরামী বাদী হয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান রাজা ও এনামুল হক অপুকে আসামি করে ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা করেছেন।

ঘটনার পর থেকেই উপজেলা প্রশাসনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে একই সাথে প্রতিটি দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনার বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী সাঈদুর রহমান বলেন, সকালে আওয়ামী লীগের দুই নেতার সাথে কথা কাটাকাটি এবং মারপিটের খবর আমাদের কাছে আসলে আমরা দ্রুত পুলিশ পাঠাই। এসময় এলাকার পরিস্থিতি শান্ত করাসহ ঘটনার সাথে জড়িত একজনকে আটক করি। থানায় মামলা হয়েছে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) হিমাদ্রী খীসা বলেন, সরকারি একজন কর্মকর্তা তার দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা থাকলে তা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেবে। কিন্তু একজন সরকারি কর্মকর্তাসহ কর্মচারীদের এভাবে প্রকাশ্যে মারপিট কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমি আশা করব পুলিশ দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি আসামিকেও গ্রেফতার করবে। তাছাড়া বিষয়টি নিয়ে আমরা ওপর মহলে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।

উপ সহকারী প্রকৌশলী সমরজিত ঘরামী বলেন, সকালে আমি ও আমার সহকারীরা অফিস শুরু করতেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান রাজা ও সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল হক অপু অফিসে প্রবেশ করে। এসময় তারা আমার কাছে ৫টি আর্সেনিকমুক্ত টিউবয়েল দাবি করে। আমি আইন বহির্ভূত কোনো কাজ করতে পারব না বলতেই তারা আমার ওপর চড়াও হয়ে ওঠে। আমি তাদেরকে বোঝাতে চেষ্টা করলে তারা আমাকে মারতে মারতে অফিস কক্ষের ভেতরে তালা দিতে যায়। এসময় আমার অফিস সহকারীরা বাধা দিলে তাদেরকেও মারধর করে। তাদের মারধরের কারণে আমার মোবাইল ফোনসহ বেশ কয়েকটি দামি জিনিস নষ্ট হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উপজেলা প্রশাসনের অন্য লোকেরা এগিয়ে আসলে তারা চলে যায়।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাই সংবাদকর্মীদের কাছে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি। ঘটনার পর থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান রাজা এলাকা ত্যাগ করেছেন।

এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন স্থানীয় ও ফরিদপুর ৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন।

এইচআর