১৬ বছর পর বিচার পেলেন মহুরী মনোয়ারা

ঢাকা, রবিবার, ২৬ মে ২০১৯ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

১৬ বছর পর বিচার পেলেন মহুরী মনোয়ারা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ৭:১৯ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০১৯

১৬ বছর পর বিচার পেলেন মহুরী মনোয়ারা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আইনজীবীর সহকারী (মহুরী) মনোয়ারা বেগমকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেয়ার অভিযোগে করা মামলার রায়ে এসআই সাদেক মজিবুর রহমানকে ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

একই সঙ্গে ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ের আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগের নির্দেশ দেন আদালত।

নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক শেখ রাজিয়া সুলতানা এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার আগে আসামি জামিনে গিয়ে পলাতক রয়েছে।

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর জাসমিন আহমেদ এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ৩ এপ্রিল প্রকাশ্য আদালতে রায় ঘোষণা হলেও বৃহস্পতিবার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন আদালত।

তিনি আরো জানান, দণ্ডিত সাদেক মজিবুর রহমান মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদীখান থানার ইমামগঞ্জ গ্রামের মৃত সাবেদ আলী মোল্লার ছেলে। তিনি উপপরিদর্শক থেকে পরিদর্শক পদোন্নতি পেয়ে ঢাকা সিআইডিতে দায়িত্ব পালন করছেন।

অপরদিকে মনোয়ারা বেগম বন্দর উপজেলার একরামপুর গ্রামের মৃত করিম কাজির মেয়ে। তিনি নারায়ণগঞ্জ জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আব্দুর রহমান শেখের সহকারী (মুহুরী)।

মামলার বরাত দিয়ে তিনি আরো জানান, এসআই সাদেক মজিবুর রহমান বন্দর থানায় কর্মরত সময় ১৯৯৩ সালে জমি সংক্রান্ত একটি মামলার বিষয়ে থানায় গেলে মনোয়ারার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এ পরিচয়ের সূত্র ধরে উভয়ের মধ্যে প্রেম ভালোবাসা ও দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এতে মনোয়ারা বেগম তিন মাসের গর্ভবতী হন।

এ বিষয়ে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ দিলে এসআই সাদেক মজিবুর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে মনোয়ারাকে গর্ভপাত ঘটায়। ওই সময় বন্দর থানা থেকে বদলী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় এসে দায়িত্ব নিয়ে এসআই সাদেক মজিবুর একটি ভাড়াবাসায় স্ত্রী পরিচয় দিয়ে মনোয়ারাকে নিয়ে তিন বছর বসবাস করেন।

এক পর্যায়ে সাদেক মজিবুরের প্রথম স্ত্রী বিষয়টি জানতে পারলে এনিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এতে ফতুল্লা মডেল থানায় বদলী হয়ে যায় সাদেক মজিবুর। সেখানে গিয়ে বিয়ের জন্য চাপ দেয় মনোয়ারা। এতে ফুসে উঠে ২০০৩ সালের ১৯ জুন রাত সাড়ে ১০টায় মনোয়ারা বেগম ফতুল্লার মাসদাইর ঈদগাহের সামনে দিয়ে রিকশাযোগে বাসায় যাওয়ার পথে সাদেক মজিবুর কয়েকজন ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়।

এসময় তারা মনোয়ারার হাত পা ভেঙে ফেলে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত করে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে মনোয়ারা বেগম নারায়ণগঞ্জ কোর্টে একটি মামলা করেন। মামলায় আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আজ এ রায় ঘোষণা করেন।

এইচআর