পাকিস্তানি কিশোরী ধর্ষণ: ধর্ষকসহ দুজন ৪ দিনের রিমান্ডে

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

পাকিস্তানি কিশোরী ধর্ষণ: ধর্ষকসহ দুজন ৪ দিনের রিমান্ডে

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ৬:১৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৪, ২০১৯

পাকিস্তানি কিশোরী ধর্ষণ: ধর্ষকসহ দুজন ৪ দিনের রিমান্ডে

টাঙ্গাইলে গোপালপুরের বহুল আলোচিত পাকিস্তানি কিশোরী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি ধর্ষক আল আমীন ও তার ভাই সুমনের ৪ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার বিকেল ৪টার দিকে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারক রুপম কুমার দাস শুনানী শেষে এ আদেশ দেন।

এর আগে বুধবার সকালে পুলিশ তাদের আদালতে হাজির করে ৭ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন।

গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন পরিবর্তন ডটকমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে আল আমিনের মা জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন। বর্তমানে এই মামলায় ৩ জন গ্রেফতার রয়েছে। মামলার বাদী ধর্ষিতার মা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

এর আগে মঙ্গলবার কুড়িগ্রাম থেকে আল আমিনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব সদস্যরা। এরপর বুধবার আসামি আল আমীনকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে পাঠান।

এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধর্ষিত কিশোরীর দোভাষির মাধ্যমে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরিন মাহবুবের কাছে ২২ ধারার জবানবন্দি দেন। বর্তমানে ধর্ষিত কিশোরী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন। পরে মঙ্গলবার রাতে আল আমীনের ভাই সুমনকে টাঙ্গাইল থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোপালপুর থানার এসআই সাদেকুর রহমান বলেন, আসামি আল আমিন ও তার ভাইয়ের আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। পরে আদালত তাদের ৪ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সুমন অপহরণের সাথে জড়িত ছিল। 

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, ওই কিশোরীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। চূড়ান্ত ফলাফল আদালতের মাধ্যমে জানা যাবে। কিশোরীর জন্য ৫ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। সে এখন বিপদমুক্ত।

উল্লেখ্য, গোপালপুর উপজেলার ভেঙ্গুলা গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ুন কবীর আনুমানিক ২০ বছর আগে পাকিস্তানের নিউ করাচিতে গিয়ে বসবাস শুরু করেন। সেখানে পাকিস্তানি নাগরিককে বিয়ে করে গামের্ন্টস ব্যবসা শুরু করেন। তাদের নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক মেয়ে রয়েছে। পাঁচ মাস আগে ছয় মাসের ভিসায় মেয়েকে নিয়ে গোপালপুরে আসেন তিনি। উঠেন উত্তর গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা ভাসুর আব্দুল ওয়াদুদের বাড়িতে। সেখানে তার মেয়ের ওপর দৃষ্টি পড়ে আরেক ভাসুর আবুল হোসেনের ছেলে আল আমিনের। কিশোরীকে রীতিমত হয়রানি শুরু করে সে। বেশ কয়েকবার শ্লীলতাহানিরও চেষ্টা করে। তখন পারিবারীকভাবে বিষয়টি ফায়সালার চেষ্টা হয়।

এদিকে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় মা ও মেয়ের পাকিস্তানে ফেরত যাবার খবর শুনে আল আমিন ক্ষুব্ধ হয়। গত ১৬ এপ্রিল রাতে একদল সন্ত্রাসীর সহযোগিতায় ওই কিশোরীকে চাচার বাড়ি থেকে অপহরণ করে সে। এরপর বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় গত ১৭ এপ্রিল ধর্ষক আল আমিন, তার বাবা আবুল হোসেন ও মা আনোয়ার বেগমকে আসামি করে ওই কিশোরীর মা গোপালপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। গোপালপুর থানা পুলিশ গোপন সূত্রে  খবর পেয়ে ১৮ এপ্রিল ভোরে জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার মহিষাকান্দি মোড়ের এক বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করে।

এইচআর