আড়াই বছরেও সম্পন্ন হয়নি বান্দরবানের সাঙ্গু সেতু, মন্ত্রীর ক্ষোভ

ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

আড়াই বছরেও সম্পন্ন হয়নি বান্দরবানের সাঙ্গু সেতু, মন্ত্রীর ক্ষোভ

বান্দরবান প্রতিনিধি ৯:২১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০১৯

আড়াই বছরেও সম্পন্ন হয়নি বান্দরবানের সাঙ্গু সেতু, মন্ত্রীর ক্ষোভ

২০১৬ সালে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে বান্দরবান সদরের গোয়ালিয়াখোলা এলাকায় সাঙ্গু নদীর ওপর পিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছিলেন পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং।

চুক্তি অনুযায়ী ২০১৭ সালে ব্রিজটির নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্মাণ শুরুর আড়াই বছরেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো ওই ব্রিজের অর্ধেক কাজও সম্পন্ন হয়নি।

জনগুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ায় মঙ্গলবার এলাকা পরিদর্শনে যান পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং।

প্রতিমন্ত্রী থাকার সময়ে বীর বাহাদুর ব্রিজটির ভিত্তি দিয়েছিলেন। কিন্তু একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর ব্রিজটি উদ্বোধন করতে না পারায় তিনি ক্ষুব্ধ।

বান্দরবানের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মধ্যে গোয়ালিয়াখোলার ব্রিজটি বীর বাহাদুরের কাছে অগ্রাধিকার প্রকল্পের মধ্যে একটি। ব্রিজের নির্মাণ কাজের এলাকাটি পরিদর্শনের সময়ে স্থানীয়রা মন্ত্রীর কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ সময় মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করারও জন্য বলেন মন্ত্রী।

জানা গেছে, পার্বত্য চট্রগ্রাম পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের (২য় পর্যায়) আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শুরু করে। রেইছা গোলালিয়াখোলা সড়কের ৭ কিলোমিটার অংশে সাংঙ্গু নদীর ওপর ২২০ মিটার পিসি গার্ডার ব্রিজটির চুক্তিমূল্য ধরা হয় ১২ কোটি ৬১ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। ২০০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শেখ হেমায়েত আলী ও ইউটি মং ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শুরু করে ২০১৬ সালে। বান্দরবান শহরের সাথে ধোপাছড়ি সড়ক হয়ে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও চেমী ডলুপাড়া হয়ে রাঙ্গামাটি কাপ্তাই সড়কের সাথে সংযোগ হওয়ায় এই ব্রিজটি স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

সবজির ভান্ডার খ্যাত গোয়ালিয়াখোলা, রেইছা, সুয়ালক, চেমী ডলুপাড়া ও সাংঙ্গু নদীর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন ঘটতো ব্রিজটি নির্মাণ হলে। কিন্তু দু’বছরেও এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়নি।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কিছুদিন কাজ চলে, পরে বন্ধ হয়ে যায়। মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজটি কিনে নেয়া বেশ কয়েকজন উপ-ঠিকাদার পরিবর্তনও হয়েছে। কিন্তু নির্মাণ কাজ অর্ধেকও সম্পন্ন  হয়নি।

আরো জানা গেছে, ব্রিজের পাইলিং কাজে মাটির নিচে পাথর পড়ায় নির্মাণ সম্পন্ন করতে সময় লাগছে। এছাড়া ঠিকাদারের অর্থসংকট নির্মাণ সামগ্রীর দাম বৃদ্ধিসহ নানা কারণে নির্মাণ কাজ পিছিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেছেন, নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। ব্রিজটি নিয়ে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তালেব জানিয়েছেন, ব্রিজটির নির্মাণ কাজ পিছিয়ে গেলেও ইতিমধ্যে ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদারদের আর্থিক সমস্যাসহ নানা কারণে মূলত নির্মাণ কাজ ধীরগতি হয়েছে।

বাকি কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।               

এইচআর

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও