টাঙ্গাইলে পাকিস্তানি তরুণী ধর্ষণের মূল আসামি এখনো অধরা

ঢাকা, ২৩ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

টাঙ্গাইলে পাকিস্তানি তরুণী ধর্ষণের মূল আসামি এখনো অধরা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ৯:৫৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০১৯

টাঙ্গাইলে পাকিস্তানি তরুণী ধর্ষণের মূল আসামি এখনো অধরা

টাঙ্গাইলে পাকিস্তানি তরুণী ধর্ষণ মামলার মূল আসামিকে পুলিশ এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি।

এদিকে শনিবার দুপুরে ওই তরুণীকে দেখতে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে আসেন ধর্ষিতার মা পকিস্তানি নাগরিক নিলুফা বেগম।

নিলুফা বেগম জানান, ২০ বছর আগে বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার উত্তর গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা হুমায়ুন কবীবের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। এরপর বেশ কয়েক বছর তাদের কাটে সংসার জীবন। এ সময় তাদের সংসারে এক মেয়ের জন্ম হয়। হঠাৎ গত ১৫ বছর আগে তিনি জানতে পান তার স্বামী হুমায়ুন আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। তবে সংবাদটি পরবর্তীতে মিথ্যা এবং তার স্বামী জীবিত ও পকিস্তানেই আছেন বলেও জানতে পারেন তিনি। গত বছর তিনি সংবাদ পান বাংলাদেশে বসবাসকারী তার শাশুড়ি খুব অসুস্থ। এ কারণে ৬ মাসের ভিসা ও মেয়েকে সাথে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে বেড়াতে আসেন। ওঠেন উত্তর গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা ভাসুর আব্দুল ওয়াদুদের বাড়িতে। সেখানে ওঠার পর থেকেই আরেক ভাসুর আবুল হোসেনের ছেলে আল আমিন ওই কিশোরীকে যৌন হয়রানি করতে থাকে।

এদিকে, তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে আসার খবর পেয়ে বখাটে আল আমিন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। গত ১৬ এপ্রিল রাতে একদল সন্ত্রাসীর সহযোগিতায় তাকে চাচার বাড়ি থেকে অপহরণ ও আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে। মেয়েকে ফিরে পেতে নানাভাবে চেষ্টা চালান তিনি। এ অবস্থায় গত ১৭ এপ্রিল আল আমিনসহ তিনজনকে আসামি করে পাকিস্তানি নাগরিক নিলুফার বেগম গোপালপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে ঘটনার প্রধান আসামির মা আনোয়ারা বেগমকে (৪৭) গ্রেফতার করা হয়। ধর্ষকের মায়ের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোর রাতে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মহিষাকান্দি মোড়ের এক বাসা থেকে বন্দি অবস্থায় ধর্ষিতাকে উদ্ধার করা হয়।

তবে ধর্ষণের আলামত সংগ্রহের পরীক্ষা বা হাসপাতালে ভর্তি সংক্রান্ত কোনো তথ্য জানেন না বলেও জানান তিনি।

অপরদিকে ধর্ষণের ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও ধর্ষক গ্রেফতার না হওয়ায় বিচার প্রাপ্তির শঙ্কায় রয়েছেন তারা। এছাড়াও ভিসার মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে এলেও ধর্ষিতা মেয়ের সুচিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় ফের তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ভাসুর আব্দুল ওয়াদুদের মেয়ে মর্জিনা জানান, ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি ও তার চাচাতো ভাই আল আমিনকে না পেয়ে মা আনোয়ারা বেগমকে পুলিশের গ্রেফতার করাসহ ধর্ষিতার পরিবারকে সহায়তা করায় তার বাবা ওয়াদুদসহ সবাইকে হত্যার হুমকি দিয়েছে ধর্ষকের পরিবার।

গোপালপুর থানার ওসি হাসান আল মামুন বলেন, ধর্ষক আল আমিনকে এখনও গ্রেফতার করা না গেলেও তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি পলাকত রয়েছেন।

এছাড়া টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি পকিস্তানি পরিবারের নিরাপত্তায় পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায় ডা. নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, ধর্ষণের আলামত নেয়া পরীক্ষার ফলাফল এখনও তারা পাননি। এছাড়াও নানা শারীরিক সমস্যাজনিত কারণে তাকে সুচিকিৎসায় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ, গত ১৬ এপ্রিল রাতে একদল সন্ত্রাসীর সহযোগিতায় তাকে চাচার বাড়ি থেকে কৌশলে অপহরণ করে। পরে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এমতাবস্থায় গত ১৭ এপ্রিল আল আমিনসহ তিনজনকে আসামি করে পাকিস্তানি নাগরিক নিলুফার বেগম গোপালপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ১৯ এপ্রিল ভোরে ধর্ষক আল আমিনের মা আনোয়ারা বেগম (৪৭)কে গ্রেফতার করাসহ জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মহিষাকান্দি মোড়ের এক বাসা থেকে বন্দি অবস্থায় ধর্ষিতাকে উদ্ধার করা হয়।

এইচআর

আরও পড়ুন...
দাদাবাড়ি বেড়াতে এসে পাকিস্তানি কিশোরী ধর্ষিত

 

ঢাকা: আরও পড়ুন

আরও