শরীয়তপুরে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা

ঢাকা, সোমবার, ২০ মে ২০১৯ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

শরীয়তপুরে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ৪:৫৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০১৯

শরীয়তপুরে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যা

জাজিরায় রেশমা আকতার (১৭) নামের এক কলেজছাত্রী ঘরের আঁড়ার সাথে ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

গতকাল বুধবার দুপুরে কলেজ শেষে বাড়ি ফিরে বিকেলে তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যা করেন।

জাজিরা থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।

নিহত রেশমা জাজিরা পৌরসভার জামাল মাদবর কান্দি গ্রামের আনিছ উদ্দিন মৃধার মেয়ে ও জাজিরা বালিকা বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী।

তার বাবা ঢাকায় কাঁচামালের ব্যবসা করেন। মা লেবাননে থাকেন। একমাত্র ভাই সেও ঢাকায় থাকে। বড় বোন বিয়ে হয়ে যাওয়ায় রেশমা চাচাদের তত্ত্বাবধায়নে একাই বাড়িতে থাকতেন।

জাজিরা থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত রেশমা এক বছর আগে এসএসসি পাস করে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রামে এসে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা শহরের জাজিরা বালিকা বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হন।

প্রতিদিনের মতো বুধবার দুপুরে কলেজ শেষে বাড়ি ফিরে ঘরে ঢুকেন। কিছুক্ষণ পরে চাচাতো বোন কাকলী রেশমাকে ডাকতে গিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ দেখে তাকে ডাকাডাকি করে। এ সময় তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ওই মেয়েটি বাড়ির অন্য লোকজন ডেকে নিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে রেশমাকে ঘরের আঁড়ার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।

পরে জাজিরা থানা পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয়রা। জাজিরা থানা পুলিশ সন্ধ্যার পর রেশমার মরদেহ উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। এ ঘটনায় জাজিরা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পুলিশের ধারণা রেশমা প্রেমঘটিত কোনো ঘটনা বা পারিবারিক কলহের কারণে আত্মহত্যা করতে পারে। তবে এসব বিষয়ে ক্ষতিয়ে দেখছে পুলিশ।

রেশমার ভগ্নিপতি নাজিম হাওলাদার বলেন, আমিও ঢাকায় ছিলাম। রেশমার মৃত্যুর খবর শুনে দেশে এসেছি। কি কারণে রেশমা আত্মহত্যা করেছে তা আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, এখনো পর্যন্ত মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ পাইনি। তবে পারিবারিক কলহ, মানুষিক কষ্ট অথবা প্রেম সংক্রান্ত কোনো কারণে আত্মহত্যা করেছে কি না তা আমরা খতিয়ে দেখছি।

এইচআর