নারায়ণগঞ্জে সংঘর্ষে পড়ে প্রাণ হারালেন গার্মেন্টস শ্রমিক

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯ | ১২ চৈত্র ১৪২৫

নারায়ণগঞ্জে সংঘর্ষে পড়ে প্রাণ হারালেন গার্মেন্টস শ্রমিক

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ১২:১৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০১৯

নারায়ণগঞ্জে সংঘর্ষে পড়ে প্রাণ হারালেন গার্মেন্টস শ্রমিক

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালীদের একটি গ্রুপের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আর এই সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক গার্মেন্টস শ্রমিক।

তবে পুলিশ বলছে, নিহতের বিষয়টি তাদের জানা নেই।

এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ এক যুবককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশসহ ৪০ থেকে ৪৫ জন আহত হয়েছে। ওই সময় ভাঙচুর করা হয় পুলিশের দুটি গাড়ি।

সংঘর্ষের কারণে প্রায় দেড় ঘণ্টা ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার সেল ও প্রচুর ফাঁকা গুলি ছোড়ে। ওই এলাকায় এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আশিকুর রহমান (২৫) নামের ওই যুবক মদনপুরের চানপুর এলাকার শহীদুল ইসলামের ছেলে। তিনি মদনপুরের প্যানডেক্স গার্মেন্টসের শ্রমিক ছিলেন।

পরিবারের লোকজন বলছেন, আশিকুর বিকেলে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পর সন্ধ্যায় বাজার করতে গেলে সংঘর্ষের মাঝখানে পড়ে প্রাণ হারায়।

জানা গেছে, বন্দর উপজেলার মদনপুর বাসস্ট্যান্ডে পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আমির হোসেন ও খলিলুর রহমান খলিল মেম্বার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে গত ১৮ নভেম্বর দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় এক পক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করে।

শনিবার সন্ধ্যায় মদনপুর এলাকার ড্রিমল্যান্ড নামের একটি রেস্টুরেন্ট থেকে ওই মামলার আসামি নূর নবী ও রিফাত নামের দুইজন যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা মূলত খলিল মেম্বারের লোক। এ খবর স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়লে খলিল মেম্বারের লোকজন এসে পুলিশকে ঘিরে রাখে। তারা গ্রেফতার দুইজনকে ছাড়িয়ে নিতে চেষ্টা করে। তখন পুলিশ বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা শুরু হয়। ওই সময় আমির হোসেনের লোকজন পুলিশের পক্ষ নিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। 

রাত সাড়ে ৭টায় মদনপুর এলাকার প্রভাবশালী ইউপি মেম্বার খলিলুর রহমান ও তার পক্ষের লোকজন পুলিশকে ধাওয়া করলে পুলিশ পাল্টা অ্যাকশনে যায়। দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ টিয়ার সেল ও ফাঁকা গুলি ছুড়তে থাকে। এতে বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল।

সংঘর্ষে পুলিশের এস আই মোহাম্মদ আলী, কনস্টেবল দেবাশীষ, মোহনসহ ৪ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া স্থানীয় অন্তত আরো ৩০ থেকে ৩৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বাবু নামের এক যুবককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।

রাত ৯টায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে হাজির হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বন্দর থানার ওসি আজহারুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের পর এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। কেউ মারা গেছে কি না তা আমাদের জানা নাই।

এপি/আরপি