সুন্দরী শবনমের অভিনব প্রতারণা

ঢাকা, বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯ | ৫ আষাঢ় ১৪২৬

সুন্দরী শবনমের অভিনব প্রতারণা

মো. রফিকুল ইসলাম, নরসিংদী ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০১৯

সুন্দরী শবনমের অভিনব প্রতারণা

নরসিংদীর মাধবদীতে অভিনব কৌশলে এক যুবককে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে বিয়ে করে দেনমোহর দাবি করছেন এক সুন্দরী নারী।আরও ওই নারীর ফাঁদ থেকে মুক্তি পেতে যুবকের মা ঘুরছেন বিচারকদের দ্বারে দ্বারে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ওই নারী যশোর কোতায়ালী থানার চুরামনকাঠা এলাকার সিরাজুল ইসলামের মেয়ে সুর্বণা নাহার সাথী ওরফে শবনম। প্রায় চার মাসে আগে অভিনব কায়দায় প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে বিয়ে করেন মাধবদী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শরিফুল ইসলাম সানি নামে এক যুবককে।

সানি মাধবদী থানাধীন নওপাড়া গ্রামের সামসুল হকের ছোট ছেলে।

যুবতী ঢাকার বসুন্ধরা এলাকার এফ ব্লকের ১৪ নম্বর রোডের ৬৪ নং বাড়িতে ভাড়া থাকেন।

সানির মা সেলিনা জানান, ছেলে প্রেম করে বিয়ে করেছে, তার বাবা মেনে নিয়েই বাড়িতে জায়গা দিয়েছিল।কিন্তু সাথী যে বিয়ের নামে প্রতারণা করে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয় তা আগে জানা ছিল না।এ মেয়ে নাকি ঢাকায় বিভিন্ন জনের সঙ্গের সম্পর্কে জড়িত রয়েছে।

শুক্রবার পারিবারিকভাবে সাংবাদিকদের ডেকে তিনি অভিযোগ করেন, সানিকে অনেকভাবে নির্যাতন করে সে অনেক টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়েছে তাদের কাছ থেকে। সাথী মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটিয়েছে তার ছেলেকে।

সেলিনা আরো জানান, সাথীর সাজানো মামলার জালে বন্দি তার পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু প্রমাণ করতে না পারায় আদালত সানি ও তাদের পরিবারকে জামিনে মুক্তি দিয়েছে।  

তারপরও সে মাধবদীতে এসে সানির সাথে ঘর-সংসার করার কৌশল অলম্বন করে তাদের বাড়িতে আসে। এ খবর জানাজানি হলে এলাকার উৎসুক জনতা তাদের বাড়িতে ভিড় জমায়। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানকে জানানো হয়। পরে সাথীর বাবা-মাকে নিয়ে আসতে বলেন চেয়ারম্যান ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। কিন্তু সে তা না করে উল্টো আরেকটি নারী নির্যাতন ও গণধর্ষণের ঘটনা সাজিয়ে তার চাকরিজীবী বড় ছেলেসহ মোট চারজনকে আসামি করে মাধবদী থানায় মামলা করে, বলেন সানির মা।

তিনি বলেন, মামলার ভয়ে তার ছেলেরা এখন বাড়ি ছাড়া রয়েছেন। প্রতরণাকারী এ নারী নিঃস্ব করে দিচ্ছে তাদের সংসার। যেকোনো সময় তাদের বড় ধরনের বিপদে ফেলে দিতে পারে বলেও তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে প্রশাসনের নিকট সঠিক তদন্ত করে এর বিচারের দাবি জানায় সানির পরিবার।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান খাদেমুল ইসলাম ফয়সাল বলেন, সানির পরিবার সাথীর বিয়টি গত ১৬ ডিসেস্বর অবগত করলে স্থানীয়দের নিয়ে বসা হয়। তাতে সাথীর বাবা-মাকে এনে এর মীমাংসা করার জন্য বলা হয় সাথীকে। তার দুই দিন পর জানতে পারি, ওই মেয়ে নাকি সানিসহ চারজনের নামে একটি গণধর্ষণ মামলা করেছে।

সানির বড় ভাই ব্রাক ব্যাংক কর্মকর্তা সেলিম বলেন, রাজধানীর বসুন্ধরার তিন শ ফিট এলাকায় সাথীর বিভিন্ন সংঘ রয়েছে। সে বাইকার গ্রুপের সদস্য। সানি মোটরসাইকেলে চড়ে তাদের ব্যবসায়ীক কাজে ওই এলাকা দিয়ে যেত। প্রায় বছর খানেক আগে একটি দোকানে পরিচয় ও ফোন নম্বর আদান-প্রদান হলে তার পাতানো জালে ফেঁসে যায় সানি।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ আবু তাহের দেওয়ান জানান, সুর্বণা নাহার সাথী নিজেই বাদী হয়ে দুটি মামলা করেন সানির পরিবারের বিরুদ্ধে।একটিতে শারীরিক নির্যাতন এবং অপরটিতে তাকে গণধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ্য করা হয়েছে, তার স্বামী সানি ও তার ভাসুরসহ চারজন তাকে গণধর্ষণ করে।

মামলা দুটি তদন্তাধীন রয়েছে বলেও জানান ওসি।

এ ব্যাপারে সুর্বণা নাহার সাথীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

আরআই/আরপি