ফরিদপুরে আ’লীগ নেতা নিহতের ঘটনায় মামলা

ঢাকা, বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯ | ৫ আষাঢ় ১৪২৬

ফরিদপুরে আ’লীগ নেতা নিহতের ঘটনায় মামলা

ফরিদপুর প্রতিনিধি ৭:২৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০১৮

ফরিদপুরে আ’লীগ নেতা নিহতের ঘটনায় মামলা

ভোটের প্রচারের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার রাতে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে তর্কে জড়িয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ইউসুফ আল মামুন নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চায়ের দোকানে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদ করায় বিএনপিকর্মীদের পিটুনিতে মামুন নিহত হন।

বুধবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে দাফন করা হয় ইউসুফ আল মামুনের মরদেহ। মানুনের নামাযে জানাজায় উপস্থিত ছিলেন এই আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এসময় তিনি নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান ও আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।

এদিকে এই ঘটনায় নিহতের ভাই সোহরাব ব্যাপারী বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

মামলায় ৩৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩০/৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়ছেন পুলিশ।

এর মধ্যে কাশেম ব্যাপারী নামে একজন এজাহারভুক্ত। অন্যান্যদের সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী আশরাফ নান্নু, গেরদা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম মিয়া, ইয়াছিন কলেজের সাবেক ভিপি সরফরাজ আলী সুন্দর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর চায়ের দোকানে বসে রাজনৈতিক আলাপ আলোচনা করছিলেন স্থানীয় কয়েক জন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইউসুফ আল মামুন। এক পর্যায়ে সেখানে উপস্থিত বিএনপির সমর্থক মজিদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটুক্তিমুলক কথা বলতে থাকেন। মামুন এর প্রতিবাদ করলে তর্ক বাধে, তর্ক থেকে হাতাহাতি ধস্তাধস্তি। এক পর্যায়ে দোকানের ঝাপের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয় মামুনকে। মাথায় আঘাত লাগলে আহত অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেল চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণ করেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা বলেন, শান্তিপূর্ন নির্বাচনী পরিবেশকে অশান্ত করার পায়তারা করছে বিএনপি। আমরা ধৈর্য ধরে আছি, কারন বিএনপি সুযোগ খুজছে নির্বাচন বানচাল করার, আমরা তাদের সেই সুযোগ দিবো না।

ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজি জমিরউদ্দিন জানান, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, সেই মজিদ বিএনপির কোন পদ পদবীতে নেই। আর তারা এক সাথেই চলাফেরা করতো। আমি এলাকায় ছিলাম না, তাই সত্যিকারে কি নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে তা বলতে পারবো না। শুনেছি চায়ের দোকানে বসে রাজনৈতিক আলাপ চলাকালে হাতাহাতি, ধস্তাধস্তি হয়। 

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ওসি এএফএম নাছিম জানান, এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই পর্যন্ত ১৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। অন্যান্যদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

টিআইএইচ/এফএম

 আরও পড়ুন...
ফরিদপুরে রাজনৈতিক ‘তর্কে’ প্রাণ গেল আ’লীগ নেতার