ফরিদপুরে রাজনৈতিক ‘তর্কে’ প্রাণ গেল আ’লীগ নেতার

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০১৯ | ৪ মাঘ ১৪২৫

ফরিদপুরে রাজনৈতিক ‘তর্কে’ প্রাণ গেল আ’লীগ নেতার

ফরিদপুর প্রতিনিধি ১০:৫৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০১৮

ফরিদপুরে রাজনৈতিক ‘তর্কে’ প্রাণ গেল আ’লীগ নেতার

ভোটের প্রচারের দ্বিতীয় দিন রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে ‘তর্কে’ জড়িয়ে প্রাণ গেল এক আওয়ামী লীগ নেতার।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গি গ্রামে একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম ইউসুফ আল মামুন। তিনি সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

আওয়ামী লীগের দাবি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদ করায় বিএনপিকর্মীরা মামুনকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

জানা গেছে, সন্ধ্যার পর চায়ের দোকানে বসে রাজনৈতিক আলাপ আলোচনা করছিলেন স্থানীয় কয়েকজন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইউসুফ আল মামুন। এক পর্যায়ে সেখানে উপস্থিত বিএনপির সমর্থক মজিদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলতে থাকেন। মামুন এর প্রতিবাদ করলে তর্ক বাধে, তর্ক থেকে হাতাহাতি ধস্তাধস্তি। এক পর্যায়ে দোকানের ঝাপের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয় মামুনকে। মাথায় আঘাত লাগলে আহত অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেল চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মৃধা বলেন, এই হামলার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশকে বিএনপি অশান্ত করার চেষ্টা করেছে। এ ধরনের ঘটনার নিন্দা জানাই এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করি।

বিএনপি সমর্থিত নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশতাকুজ্জামান নিহতের ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মামুন ও মজিদ একসাথে চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিল। সেখানে রাজনৈতিক আলোচনা থেকেই উত্তেজনা শুরু হয়। এরই যের ধরে মারপিটের ঘটনা ঘটে। মামুন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা হলেও মজিদ বিএনপির কোন পদে আছে কিনা জানা নেই।

ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজি জমিরউদ্দিন জানান, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, সেই মজিদ বিএনপির কোনো পদ-পদবীতে নেই। আর তারা এক সাথেই চলাফেরা করতো। আমি এলাকায় ছিলাম না, তাই সত্যিকার কি নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে তা বলতে পারবো না।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএফএম নাছিম জানায়, চায়ের দোকানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তি করার প্রতিবাদ করায় স্থানীয় মজিদ ও তার লোকজনের সাথে ইউসুফের বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি হয়। এতে মো. ইউসুফ আল মামুন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে আনা হলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে, তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি।

এসবি