সোনারাগাঁও থানার ওসির বিরুদ্ধে যুবলীগ নেতার মামলা

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৫ পৌষ ১৪২৫

সোনারাগাঁও থানার ওসির বিরুদ্ধে যুবলীগ নেতার মামলা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ৮:৩৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০১৮

সোনারাগাঁও থানার ওসির বিরুদ্ধে যুবলীগ নেতার মামলা

জমির দখল ছেড়ে না দেয়ায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে যুবলীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম স্বপনকে স্ত্রী-সন্তানের সামনে হাত ও চোখ বেঁধে ধরে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মোর্শেদ আলম (পিপিএম) ও সেকেন্ড অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) সাধন বসাকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অশোক কুমার দত্তের আদালতে নির্যাতনের শিকার জাহিদুল ইসলাম স্বপন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

আদালত শুনানি শেষে একজন এএসপি পদ মর্যাদার কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করে আগামী ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে জেলা পুলিশ সুপারকে (এসপি) নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদী পক্ষে আইনজীবী মনির হোসেন জানান, জাহিদুল ইসলাম স্বপন (৪২) সোনারগাঁও উপজেলার বড়নগর নগরসাদীপুর গ্রামের ওয়ালিউল্লাহর ছেলে। স্বপন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারাগাঁ) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য কায়সার হাসনাতের এপিএস ছিলেন। এছাড়া স্বপন সোনারগাঁ থানা যুবলীগের সংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক।

তিনি জানান, গত ৮ অক্টোবর রাত আড়াইটায় স্বপনের বাড়িতে হানা দেয় সোনারগাঁ থানার ওসি মোরশেদ আলম ও সেকেন্ড অফিসার (এসআই) সাধন বসাক। এসময় স্বপনকে ঘুম থেকে ডেকে উঠিয়ে তার বসত ঘরের জমি ছেড়ে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। তাদের নির্দেশ অমান্য করলে স্ত্রী সন্তানের সামনে চোখ-হাত বেঁধে ঘর থেকে বাহিরে বের করেন স্বপনকে। একই সময় স্বপনের স্ত্রী ও সন্তানকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে দরজায় তালা লাগিয়ে দেন। এরপর স্বপনকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে একটি ঘরের ভেতরে রাখেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবীর দাবি সেই ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে স্বপনকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন পুলিশের ওই দুই কর্মকর্তা। এক পর্যায়ে স্বপন জ্ঞান হারালে তাকে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে রাত ৩টা ৪০ মিনিটে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে স্বপনকে থানায় নিয়ে যায়। তখন স্বপন আরো অসুস্থ হয়ে পড়লে সোনারগাঁও থানা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু ও সোনারগাঁও পৌর যুবলীগের সভাপতি আসাদকে ডেকে নিয়ে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেয়।

তিনি জানান, এঘটনায় আপাতত দুইজন চিকিৎসকসহ ৭জনকে সাক্ষী দেখিয়ে মামলার দায়ের করা হয়েছে।

এবিষয়ে জানতে সোনারগাঁও থানার ওসি মোর্শেদ আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এসবি