শরীয়তপুরে পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে আতংক

ঢাকা, রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

শরীয়তপুরে পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে আতংক

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ৭:১৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

শরীয়তপুরে পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে আতংক

শরীয়তপুরে থেমে নেই পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন। প্রতিদিন নুতন নুতন বাড়ি ঘর গাছপালা ফসলি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গত ৪৮ ঘন্টায় প্রায় ৩০টি বাড়ি গাছপালা ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। আশেপাশের মানুষের মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে।

ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। অনাহারে অর্ধহারে দিন কাটাচ্ছে তারা। সরকারি ত্রাণ প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। উপজেলা প্রশাসন বলছে, পর্যাপ্ত ত্রাণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। ত্রাণ আসার সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

নড়িয়ার ভাঙন কবলিত এলাকা ঘুরে ও ক্ষতিগ্রস্থদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, দুই মাস যাবত শরীয়তপুরের নড়িয়ায় অব্যাহত পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন চলছে। পদ্মার ভয়াল স্রোতের টানে  প্রতিদিন নুতন নুতন বাড়ি ঘর গাছপালা ফসলি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

গত ২৪ ঘন্টায় নড়িয়া উপজেলার বাঁশতলা ও উত্তর  কেদারপুর এলাকায় আলী অকবর দেওযান, সফি বেপারী, মোকলেছ দেওয়ান, সবুজ দেওয়ান, রাজিব দেওয়ান, সজিব দেওয়ান, নুরুল হক বেপারী, তারা বেপারী, রফিক বেপারী, সালাহ উদ্দিন বেপারী, কাদের ঢালি, মনির ঢালি,  নজু ঢালি, ইদ্রিস মৌলবী, গিয়াস মোল্যা, ইরিয়াছ মোল্যা, নুর ইসলাম ঢালি, নাসির ঢালি, হামি বেপারী সহ কমপক্ষে ৩০টি বাড়ি ঘর বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের গতি ও ভয়াবহতা দেখে আশেপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে। যেকোন সময় বিলীন হয়ে যেতে পারে আশেপাশে থাকা তাদের বাড়িঘর।

গত দুইমাসে নড়িয়া উপজেলা ঘরবাড়ি হারিয়ে ৫ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে মূলফৎগঞ্জ বাজারের প্রায় ৮ শতাধিক দোকানপাট, নড়িয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাকি অংশ, নড়িয়া বাজার, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, নড়িয়া পৌরসভা কমপ্লেক্স, নড়িয়া উপজেলা সরকারি খাদ্য গুদামসহ শতশত বাড়িঘর ও স্থাপনা। ওই এলাকার মানুষ সারাক্ষণ বাড়িঘর সরিয়ে নেয়ার জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। অনেকেই ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়ে রাস্তার পাশে, উঁচু স্থানে বা অন্যের জায়গায় ভাড়া নিয়ে কোনমতে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্থদের অভিযোগ, তাদের জন্য সরকারি বরাদ্ধ অত্যন্ত নগন্য। উপজেলা প্রশাসন বলছে, পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রীর জন্য দুর্যোগ মন্ত্রনালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

এ ত্রাণ আসার সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

মানবেতর জীবনযাপন করা ভাঙন কবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ মানুষদের দাবি, সরকার জরুরি ভিত্তিতে বেড়িবাধের কাজটা শুরু করে বাকি এলাকা রক্ষা করা হোক

বাঁশতলা এলাকার আলী আকবর দেওয়ান বলেন, আমাদের আর কিছুই রইল না। সুখে শান্তিতে  পরিবার পরিজন নিয়ে থাকার জন্য অনেক কষ্ট করে পাকা বাড়িঘর বানিয়েছিলাম। এ বাড়িটাও পদ্মা নিয়ে গেল। এখন আমাদের মাথা গোঁজার জায়গাটুকুও নেই। এখন কী করবো ভেবে পাচ্ছি না।

ভিটে-মাটিহারা  পান্না বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, খেয়ে না খেয়ে সখ করে একটি ঘর বানিয়ে ছিলাম। আজ পদ্মা আমাদের সে ঘরখানা নিয়ে গেল। সরকার আমাদের বেড়িবাধটা দিল না। বেড়িবাধ দিলে আমাদের বাড়ি ভাঙ্গতো না।

নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দুলাল বেপারী বলেন, ২ মাস যাবত পদ্মা নদী ভাঙছে। কমপক্ষে ৫ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে গেছে। গত ৪৮ ঘন্টায় ৩০টি বাড়িঘর বিলীন করে নিয়েছে। কখন যেন আমাদের বাড়ি ঘর নিয়ে যায়। আমরা এখন আতংকে আছি।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াসমীন বলেন, ইতোমধ্যে  শুকনো খাবার, চাল ও ঢেউটিন দেয়া হয়েছে। এছাড়াও পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রীর জন্য দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। ত্রাণ সামগ্রী আসা মাত্র ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

এআরআর/আরজি