শরীয়তপুরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

ঢাকা, রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫

শরীয়তপুরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ১১:০৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮

শরীয়তপুরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ ও হত্যার দায়ে ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

এক গৃহবধূকে গণধর্ষণ করে হত্যার দায়ে শরীয়তপুরের নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালের জজ মো. আবদুস সালাম খান ৩ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।

১৭ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণের পর আজ বুধবার বিকালে জনাকীর্ণ আদালতে এ আদেশ দেয়া হয়। এর মধ্যে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত দুইজন আসামি কারাগারে থাকলেও মূল আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিনপ্রাপ্ত হয়ে মামলার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছে।

মামলা বিবরণে ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে শরীয়তপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ বালুচরা গ্রামের প্রবাসী ইসহাক মোল্যার সঙ্গে একই উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নে মধ্য চরোসুন্ধি গ্রামের হাফিজ উদ্দিন পাটোয়ারীর মেয়ে শরীয়তপুর সরকারী গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সামসুন্নাহার তানির বিয়ে হয়।

২০১৪ সালে ১৭ আগস্ট বিকেলে তার স্বামীর বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন তানি। এরপর তিনি আর বাড়ি ফিরেনি। ওই দিন রাতেই ইসহাকের বড়ভাই কাসেম মোল্যা পালং মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

মোবাইল প্রযুক্তির মাধ্যমে পুলিশ ঘাতক রেজাউল করিম সুজনকে সনাক্ত করে গ্রেফতার করে। তার স্বীকারোক্তি মতে সহযোগী সাইফুল ইসলাম ও দুলাল মাতবরকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের দেখানো মতে ২০১৪ সালের ২১ আগস্ট দিবাগত গভীর রাতে সদর উপজেলার ধানুকা গ্রামের নাসির উদ্দিন কালুর বাড়ির বাগানের একটি ডোবার কচুরিপনার নিচে থেকে তানি’র ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়।

এরপর আসামিরা চিফ জুডশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়। তাদের স্বীকারোক্তি মতে তানিকে পরকীয়া প্রেমের ফাঁদে ফেলে ডেকে নিয়ে তিন বন্ধু গণধর্ষণ করে ধারালো ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।

এ ঘটনায় কাসেম মোল্যা বাদী হয়ে ৩ জনকেই আসামি করে পালং মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এর মধ্যে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি রেজাউল কবীর সুজন উচ্চ আদালত থেকে জামিনপ্রাপ্ত হয়ে মামলার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছে। অন্য দুইজন সাইফুল ইসলাম পেদা  ও দুলাল মাতবরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাড. মুরাদ ও মো. শাহ আলম। সরকার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পিপি অ্যাড. মীর্জা হজরত আলী।

এআরআর/আরজি