চিকিৎসকের অবহেলায় সাপে কাটা রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮ | ৮ কার্তিক ১৪২৫

চিকিৎসকের অবহেলায় সাপে কাটা রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ৬:২১ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০১৮

চিকিৎসকের অবহেলায় সাপে কাটা রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মনিরা আফরোজের অবহেলায় সাপে কাটা রোগী আবু সাঈদের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মৃতের ছেলে শহিদুল ইসলাম শান্ত।

গত ১৬ জুলাই কালিহাতী উপজেলার চর ভাবলা গ্রামের সাপে কাটা রোগী আবু সাঈদ (৬০) বিনা চিকিৎসায় মারা যান বলে অভিযোগ করেন তার ছেলে শান্ত।

শান্ত কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য-সহকারী হিসেবে কর্মরত।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শান্ত।

তিনি জানান, গত ১৬ জুলাই দুপুর দেড়টার দিকে বাড়ির দোকানে তার বাবাকে সাপে কাটে। দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। এ সময় দায়িত্বরত ছিলেন সহকারী রেজিস্ট্রার (মেডিসিন বিভাগ) চিকিৎসক মনিরা আফরোজ।

লিখিত বক্তব্যে শান্ত জানান, সিভিল সার্জন মনিরা আফরোজকে মোবাইল ফোনে তার বাবাকে দ্রুত সাপে কাটার ভ্যাকসিন দেয়ার ব্যবস্থা করতে বলেন। কিন্তু তিনি (মনিরা) ভ্যাকসিন প্রয়োগ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘সিভিল সার্জন বললেই ভ্যাকসিন দিতে হবে? আপনি হাসপাতাল ম্যানেজমেন্টের সাথে যোগাযোগ করুন।’

শান্ত জানান, ভ্যাকসিন না দিয়ে এক পর্যায়ে মনিরা আফরোজ তার বাবাকে ঢাকা কিংবা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রোগীর ছাড়পত্র দেয়া হয়। এর পর ময়মনসিংহ হাসপাতালে রাত পৌনে ৮টায় ভর্তি করা হয় তার বাবাকে। সোয়া ৮টায় মৃত্যু হয় আবু সাইদের।

সংবাদ সম্মেলনে শহিদুল ইসলাম জানান, সময় মতো তার বাবাকে ভ্যাকসিন দেয়া হলে তিনি বেঁচে যেতেন। দায়িত্ব অবহেলার কারণে তার বাবা মারা গিয়েছেন। এজন্য তিনি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

এ ব্যাপারে ডা: মনিরা আফরোজের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ভ্যাকসিন দিলেও রোগীর সমস্যা হতে পারে। সাপে কাটা রোগীকে ভ্যাকসিন দেয়ার মতো যে রকম সেটিং থাকা দরকার সে রকম সেটিং ছিল না। এ জন্যই ভ্যাকসিন দেয়া হয়নি। রোগীরা স্বজনরা সব কিছু জেনেও এমন অভিযোগ করছে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক সদর উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. শরিফ হোসেন খান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, হাসপাতালে ভ্যাকনিন থাকা সত্ত্বেও একজন সরকারী স্বাস্থ্য সহকারীর বাবাকে ভ্যাকসিন না দেয়াটা দুঃখজনক। হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অবহেলার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মৌখিকভাবে বলেছি। হাসপাতালে অবশ্যই ভ্যাকসিন ছিলো। যদি কর্তব্যরত চিকিৎসক ভ্যাকসিন দিতো তা হলে আবু সাঈদের মৃত্যু হতো না। একটি সরকারি হাসপাতাল এভাবে চলতে পারে না বলে তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মৃত আবু সাইদের ছোট ছেলে সোহেল রানা, মেয়ে শান্তা ইসলাম, টাঙ্গাইল স্বাস্থ্য সহকারী এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান।

এসবি