ডাকাতের হাতে ২ নৈশপ্রহরী খুনে পুলিশকে কেন দুষছে এলাকাবাসী?

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০১৯ | ১১ মাঘ ১৪২৫

ডাকাতের হাতে ২ নৈশপ্রহরী খুনে পুলিশকে কেন দুষছে এলাকাবাসী?

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ৪:৫০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০১৮

ডাকাতের হাতে ২ নৈশপ্রহরী খুনে পুলিশকে কেন দুষছে এলাকাবাসী?

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় লক্ষণখোলা মাদ্রাসা মার্কেটে ডাকাতদের হাতে দুইজন নৈশপ্রহরী খুন হওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসী পুলিশকেই দোষারোপ করছেন।

তাদের অভিযোগ, ওই এলাকায় একাধিক তুলার গোডাউনসহ বিভিন্ন কলকারখানা থেকে প্রতিদিন চাঁদা উঠালেও ঘটনার দিন রহস্যজনক কারণে পুলিশ ছিল না।

এছাড়া ওই এলাকায় প্রায়শই ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয়রা যুবকদের দিয়ে কমিটি করে দৈনিক ৮/১০ জন রাতভর পাহারা দিতো। কিন্তু পুলিশ এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই যুবকদের হয়রানি করতে থাকে। একপর্যায়ে পাহারা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী।

এরপর থেকে ডাকাতদের তৎপরতা বেড়ে গেলেও পুলিশের হয়রানির ভয়ে কেউ ডাকাতদের প্রতিহত করেনি। সর্বশেষ দুই নৈশপ্রহরীর জীবন গেলো ডাকাতদের ধারালো ছুরির আঘাতে।

এলাবাসীর দাবি, ডাকাতির স্থলের আশপাশের সকল সিসিটিভি ক্যামেরা ডাকাতরা ভেঙে ফেললেও কিছু ক্যামেরা তাদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। ওইসব ক্যামেরা থেকে ডাকাতদের সনাক্ত করে তাদের গ্রেফতার করা হোক। এঘটনায় এলাকার একজন সাধারণ মানুষকে যেনো হয়রানি করা না হয়।

শুক্রবার ভোররাতে ডাকাতির ঘটনায় নিহত নৈশপ্রহরীরা হলেন- লক্ষণখোলা মাদ্রাসা মার্কেট এলাকার রেহান উদ্দিন মৃধা (৬৫) ও মোতালেব হোসেন (৫৫)।

এদের মধ্যে রেহান উদ্দিন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার ৬ মেয়ে ২ ছেলে এবং স্ত্রীসহ ৯ জনের সংসার। সন্তানদের মধ্যে ৪ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। আর বাকি সন্তানরা কাজ করার উপযুক্ত হননি। মার্কেটে নৈশপ্রহরীর কাজ করে মাসে আট হাজার টাকা বেতন পেতেন। এ টাকায় তার সংসার চলতো।

বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিন মণ্ডল জানান, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত কোনো এক সময়ে অজ্ঞাত পরিচয় সশস্ত্র ডাকাত দল লক্ষণখোলা মাদ্রাসা মার্কেটে হানা দেয়।

ওই মার্কেটের বিসমিল্লাহ ব্যাটারি স্টোর, সততা মেলা ব্যাটারি ও সততা ব্যাটারি সার্ভিসিং সেন্টার দোকান মালিকদের অভিযোগ, তালা ভেঙে তাদের দোকান হতে প্রায় ২৭ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে।

ভোরে মার্কেটের দুজন নৈশপ্রহরীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদেরকে লোহার দেশীর অস্ত্র দিয়ে মাথা ও দেহের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে- ডাকাতিতে বাধা দেয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।

ডাকাতদের গ্রেফতার ও মালামাল উদ্ধারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে জানিয়ে ওসি বলেন, ‘এলাকাবাসীর এমন অভিযোগ আগে আমার কাছে কেউ করেনি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো।’

এপি/এমএসআই
আরও পড়ুন...
না’গঞ্জে ২ নৈশপ্রহরীকে খুন করে মালামাল লুট