প্রবীর হত্যায় অভিযুক্ত পিন্টু-বাপান এবার স্বপন হত্যায় রিমান্ডে

ঢাকা, বুধবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৮ | ৮ কার্তিক ১৪২৫

প্রবীর হত্যায় অভিযুক্ত পিন্টু-বাপান এবার স্বপন হত্যায় রিমান্ডে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ১১:৪৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৮, ২০১৮

প্রবীর হত্যায় অভিযুক্ত পিন্টু-বাপান এবার স্বপন হত্যায় রিমান্ডে

নারায়ণগঞ্জে আলোচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ হত্যায় গ্রেফতার পিন্টু দেবনাথ ও বাপান ভৌমিক বাবুকে ২০১৬ সালে স্বপন কুমার সাহা নামে আরেক কাপড় ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগে রিমান্ডে নিয়েছে নারায়নগঞ্জ গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এবছরের জুনে প্রবীর ঘোষকে হত্যা করা হয়। তার আগে ২০১৬ সালে টুকরো টুকরো করে হত্যা করে স্বপন কুমার সাহাকেও।

 

গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য দিলে ডিবি ওই দুজনকে স্বপন হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখায়। পরে ১০ দিনের  রিমান্ড আবেদন করেন। বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমামের আদালতে শুনানী শেষে তাদের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

প্রবীর ঘোষ ও স্বপন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মফিজুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।

মামলা ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজের ২১ দিন পর ৯ জুলাই রাত ১১টায় শহরের আমলপাড়া এলাকার ঠান্ডু মিয়ার ৪ তলা ভবনের নিচে সেপটিক ট্যাংক থেকে প্রবীরের লাশ উদ্ধার করা হয়। তাকে নৃশংসভাবে টুকরো টুকরো করে হত্যা করা হয়েছে। পরে লাশের টুকরো টুকরো অংশ ফেলে দেয়া হয় ভবনের সেপটিক ট্যাংকে। 

প্রবীর ঘোষ কালীরবাজার ভোলানাথ জুয়েলার্সের মালিক ছিলেন। গত ১৮ জুন থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। তার সন্ধান দাবিতে ২১ দিন ধরে বিভিন্ন সময়ে ব্যবসায়ী, নিহতের স্বজন, বিভিন্ন সংগঠন ও পরিবারের লোকজন মানববন্ধন ও সমাবেশ করে আসছিল।

গত ৯ জুলাই সকালে সন্দেহ ভাজন হিসেবে শহরের কালীরবাজার এলাকা থেকে পিন্টু দেবনাথ ও বাপান ভৌমিক বাবুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের দেয়া তথ্য মতে রাতেই শহরের আমলপাড়া এলাকার রাশেদুল ইসলাম ঠান্ডু মিয়ার বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে প্রবীর ঘোষের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ১০ জুলাই দুইজনকেই ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

এর মধ্যে ১৪ জুলাই পিন্টু দেবনাথ আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে প্রবীর ঘোষ হত্যার দায় স্বীকার করে। পরে বাবুকে আরো ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

এরই মধ্যে ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর নিখোঁজের পর পিন্টুর ফ্লাটেই খুন হন ব্যবসায়ী স্বপন কুমার সাহা। রিমান্ডে থাকা অবস্থায় স্বপন হত্যা নিয়ে এমন তথ্য দেন বাবু। পরে ১৭ জুলাই বাপান ভৌমিক বাবু আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। 

এরই মধ্যে স্বপনের বড় বাই অজিত কুমার সাহা গত ১৬ জুলাই সদর মডেল থানায় একটি হত্যা ও গুমের মামলা করে। সেখানে পিন্টু দেবনাথ, বাপান, গ্রেফতারকৃত আবদুল্লাহ আল মামুন ও রত্মা চক্রবর্তীকে আসামী করেন। 

স্বপনের বড় ভাই অজিত কুমার সাহা বলেন, স্বপন কুমার সাহা ছিলেন খুচরো কাপড় ব্যবসায়ী। ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। ৯ জুলাই প্রবীর ঘোষের লাশ উদ্ধারের পর পিন্টুর প্রতি আমাদের সন্দেহ বাড়ে। ডিবিকে তা জানানো হয়।

তিনি বলেন, ১৫ জুলাই বিষয়টি ডিবিকে জানালে রিমান্ডে থাকা পিন্টুর সহযোগী বাপন ভৌমিক বাবু এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। তিনি তখন পিন্টু দেবনাথের এক বান্ধবী রত্মা রাণী চক্রবর্তীর সন্ধান দেন। তার মোবাইল নাম্বার পর্যালোচনা করে জানা গেছে স্বপনের মোবাইলটি রত্মা ব্যবহার করছে।

১৫ জুলাই রাতে তাকে আটকের পর তার কাছ থেকে স্বপনের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, মূলত পিন্টুর টাকা নিয়ে স্বপন ভারতে একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছে। ওই ফ্ল্যাট পিন্টুকে না দিয়ে বরং উল্টো হুমকি দিচ্ছিল স্বপন। এসব কারণেই ২০১৬ সালের মার্চে আমলাপাড়া এলাকার মোল্লা মামুন নিজেই পিন্টুকে হুমকি দিত। তখন থেকেই স্বপন সাহা ও প্রবীর ঘোষকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে পিন্টু। রত্মার দেয়া তথ্য মতে ১৫ জুলাই রাতেই গ্রেফতার করা হয় মামুনকে।

প্রবীর ঘোষ ও স্বপন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মফিজুল ইসলাম বলেন, প্রবীর ঘোষ হত্যায় অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ কালে স্বপন হত্যার তথ্য বেড়িয়ে আসে। তিনি বিষয়ে আরো অধিকতর তথ্য জানতে দুই জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এপি/এফএম