পুলিশের বিরুদ্ধে ধর্ষক-হত্যাকারীদের পক্ষ নেয়ার অভিযোগ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫

পুলিশের বিরুদ্ধে ধর্ষক-হত্যাকারীদের পক্ষ নেয়ার অভিযোগ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ৬:২০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০১৮

print
পুলিশের বিরুদ্ধে ধর্ষক-হত্যাকারীদের পক্ষ নেয়ার অভিযোগ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে ৫ম শ্রেণির স্কুলছাত্রী লিজাকে ধর্ষণ ও হত্যাকারীদের রক্ষায় পুলিশ অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে লিজার পরিবার। বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলন এ অভিযোগ করেন। রোববার টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন লিজার বাবা মিজানুর রহমান।

লিজার বাবা দাবি করে বলেন, ঘটনার সাথে জড়ীত ৩ জন গ্রেফতার আছে। আমার মেয়েকে ধর্ষণ ও হত্যায় তারাই দায়ী। কারণ আসামীদের কাছ থেকে পুলিশ গুরুত্বপুর্ণ তথ্য পেয়েছে। যার সাথে উল্লেখিত ঘটনার সাদৃশ্যতা রয়েছে। অথচ মধুপুর থানা পুলিশ আসামীদের পক্ষে মোটা অঙ্কের টাকা উৎকোচ পেয়ে মূল ঘটনা অন্য দিকে ধাবিত করার চেষ্টা করছে।

মিজানুর রহমান অভিযোগ করে আরো বলেন, পুলিশ অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে কাজ করছে। এলাকার কেউ লিজার ধর্ষণ ও হত্যার বিচারের পক্ষে কথা বললে পুলিশ তাকে নানা ভাবে হয়রানি করছে। এমনকি তাদের উল্টো লিজা ধর্ষণ এবং হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।

আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষে আন্দোলনের উদ্যোগ নিতে চাইলে পুলিশ সেখানেও অজ্ঞাত কারণে বাধা সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ করেন মৃত লিজার বাবা মিজানুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ২৫ মে লিজা আক্তার (১১) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে গোসলের উদ্দেশে বের হয়। তার পর থেকে তাকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ওই রাতের ৯টার দিকে বাড়ির পাশে বাঁশ বাগানে কলা পাতায় মোড়ানো অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। লিজার নিথর দেহ ক্ষত-বিক্ষত ও কাপড়-চোপড় ছেঁড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় তার গোপনাঙ্গও রক্তাত ছিল। ফলে বুঝতে বাকি থাকে না আমার নিষ্পাপ মেয়েটাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ঘটনার পর থেকে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়ি। পরে ২৬ মে আমি বাদি হয়ে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করি।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ গাছাবাড়ী এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে আনোয়ার হোসেন ওরফে রানা (২২), মিঠু খানের ছেলে রাশেদ খান ওরফে রাসেল (১৫), শামসুল হকের ছেলে আমজাদ হোসেনকে (২৮) আটক করে জেলা হাজতে প্রেরণ করে।

পরে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড দাবি করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। রিমান্ডে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেলেও বিশেষ কারণে তা প্রকাশ করছে না।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন— লিজার মা রহিমা বেগম, ভাই রনি মিয়া ও বোনের স্বামী সুমন মিয়া প্রমুখ।

থানা পুলিশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে মধুপুর থানার ওসি সফিকুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, মামলাটি বর্তমানে পুলিশের তদন্ত সংস্থা পুলিশ বুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে।

থানা পুলিশের বিরুদ্ধে লিজার পরিবারের লোকজন যে সকল অভিযোগ করছেন যে সকল অভিযোগ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।

পিবিআই টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, কিছুদিন আগে মামলা আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলাটি আমাদের কাছে আসার পর তদন্ত শুরু করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ হত্যা মামলার আলামত ডিএনএ রিপোর্ট (ঢাকা থেকে) পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এই মামলায় আগে যিনি তদন্ত করেছিলেন, মধুপুর থানার এসআই রেজাউল করিম জানিয়েছিলেন ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। প্রথমে তাকে ধর্ষণ করে পরে হত্যা করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৫ মে শুক্রবার গাছাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লিজা আক্তার (১১) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে গোসলের উদ্দেশে বের হয়। তার পর থেকে তাকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ওই রাতে প্রায় ৯টার দিকে বাড়ির পাশে বাঁশঝাড়ে কলাপাতা মোড়ানো অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। পরে ২৬ মে তার বাবা বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।

এএএন/এফএম

 
.


আলোচিত সংবাদ