ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে হুমকিদাতাদের গ্রেফতার দাবি

ঢাকা, রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২ পৌষ ১৪২৫

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে হুমকিদাতাদের গ্রেফতার দাবি

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ১১:২৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৮

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে হুমকিদাতাদের গ্রেফতার দাবি

টাঙ্গাইলে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গাড়ি ভাঙচুর ও টেক্সটাইল বিভাগের শিক্ষক আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে অসদাচরণ এবং মোবাইল ফোনে ভিসিকে হুমকি দেয়ার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় একাডেমিক ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মুহাম্মদ শাহীন উদ্দিন বলেন, গত ৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ভাঙচুরের পর নিন্দা এবং সাংবাদিক সমিতি ও অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছি। কিন্তু মানববন্ধনের পরই ঘটনার ছয় দিনের মাথায় মঙ্গলবার আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি গাড়ি ভাঙচুর হয়।

তিনি, বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রীরা উদ্বিগ্ন এবং তারা নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি বলেন, এ অবস্থায় দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এসময় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. ইকবাল মাহমুদ, কোষাধ্যক্ষ ধনেশ্বর চন্দ্র সরকার, যুগ্ম-সম্পাদক নাজমুল ইসলাম, দফতর সম্পাদক ড. জয়নুল আবেদীন, প্রকাশনা ও প্রচার সম্পাদক মুহাম্মদ রবিউল ইসলাম লিটন, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক নান্নুর রহমান, সাংস্কৃতিক ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক নাসরীন জাহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দুপুরে শহরের কাগমারী ব্রিজের পাশে ময়দার মিলের সামনে দ্বিতীয় দফায় মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মিনিবাস দোলনচাঁপা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা।

এর আগে প্রথম দফায় গত ৪ জুলাই বিকালে শহরের সরকারি এমএম আলী কলেজের সামনে কলেজের পশ্চিম পাশে মোড়ে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় তারা গাড়ির ভেতরে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক আবদুল্লাহ আল মামুন ও ড্রাইভার সুমন মিয়াকে গাড়ি থেকে বের হয়ে আসতে বলে।

পরে আবদুল্লাহ আল মামুনের ফোন ব্যবহার করে ভাঙচুরকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. আলাউদ্দিনকে হুমকি প্রদান করে। ফোনে তারা ভিসিকে বলে- ‘টাঙ্গাইলে থাকস আর টাঙ্গাইলের বাপকে চিনস না, টাঙ্গাইলের বাপকে মানস না, টাঙ্গাইলের বাপের কথা শুনস না। টাঙ্গাইলের বাপেরে কথা মতো (তদবির করলে) চাকরি দেস না, বাইরে থেকে এনে চাকরি দেস।’

ভিসি তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের ‘টাঙ্গাইলের বাবা’ বলে পরিচয় দেয়। তাদের সুপারিশ মত চাকরি না হলে ভবিষ্যতে এ রকম ঘটনা আরও ঘটবে বলেও হুমকি দেয়।

এ ঘটনায় ওইদিন সন্ধ্যায় অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জনের নামে টাঙ্গাইল মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

এএএন/এমএসআই