আমের সোনালি মুকুলে ছড়াছড়ি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫

আমের সোনালি মুকুলে ছড়াছড়ি

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৮

আমের সোনালি মুকুলে ছড়াছড়ি

ঝড়ের দিনে মামার দেশে, আম কুড়াতে সুখ, পাকা জামের মধুর রসে, রঙিন করি মুখ। পল্লীকবি জসীম উদ্দিনের মামার বাড়ি কবিতার পঙ্গোক্তিগুলো বাস্তব রূপ পেতে বাকি রয়েছে আর মাত্র কয়েক দিন। ইতিমধ্যে সুখের ঘ্রাণ বইতে শুরু করেছে জেলাজুড়ে। চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে এ মুকুলের পাগল করা ঘ্রাণ।

কিশোরগঞ্জের এগারোটি উপজেলায় যে দিকেই থাকাই সেখানেই এখন আমের সোনালি মুকুলের ছড়াছড়ি। আর এসব মুকুলের চমক সৃষ্টি করছে বিভিন্ন আম বাগানে, রাস্তার পাশে, বাড়ির আঙ্গিনার চারিদিকে। গাছে গাছে এখন দৃশ্যমান সোনালী মুকুলের আভা। আর বাতাসে মিশে সৃষ্টি করছে মৌ মৌ গন্ধ। যে ঘ্রাণ মানুষের মন ও প্রাণকে বিমোহিত করে। মুকুলের ভারে প্রতিটি আম গাছের মাথা যেন নুয়ে পড়ার উপক্রম।

এদিকে মৌমাছিরাও আসতে শুরু করেছে মুকুল থেকে মধু আহরণের জন্য। স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তর বলছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলন হবে বলে এমনটি আশা করছেন তারা।

কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সব কয়েকটি আম বাগানে, রাস্তার পাশে, বাড়ির আশপাশে ফালগুনি হাওয়ায় গাছে থোকায় থোকায় দুলছে আমের মুকুল। শীতের শেষে আম গাছের কচি ডগা ভেদ করে সবুজ পাতার ফাঁকে হলদেটে মুকুল গুচ্ছ জেনো উঁকি দিয়ে হাসছে। বাগানের সুনসান নীরবতা চিরে একটানা গান শোনাচ্ছে মৌমাছি। মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে মৌমাছির গুনগুন শব্দে মুখরিত আম গাছগুলো। যে গন্ধ মানুষের মন ও প্রাণকে বিমোহিত করে তুলেছে। শহর কিংবা গ্রামে সর্বত্র আমগাছ তার মুকুল নিয়ে হলদে রঙ ধারণ করে সেজেছে এক অপরূপ সাজে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আমের মুকুল পরিণত হবে এক পরিপূর্ণ দানায়। আমের মুকুলে কৃষকের আগামীর স্বপ্ন দোল খাচ্ছে। সেই সোনালি স্বপ্নকে বুকে ধারণ করেই বাগানের গাছ পরিচর্যা করছে কিশোরগঞ্জের আম প্রিয় মানুষেরা।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলছে, প্রতিবারের চেয়েও এবার কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার সবকয়টি বাগানে, বাড়ির চারিদিকে, রাস্তার পাশে আমের মুকুলের বাম্পার ফলন এসেছে। এবার আমের মুকুল অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। যদিও এ জেলায় ৩০/৩৫টি আম বাগান ছাড়া আমের কোনো বাগান নেই। তবে গ্রামের প্রতিটি বাড়িজুড়ে প্রচুর আমগাছ রয়েছে।

অন্যদিকে, আমের উৎপাদন প্রচুর ফলন হওয়ায়, আম চাষে লাভবানের কথা শুনে আম বাগান তৈরীতে আগ্রহ বাড়ছে এলাকার কৃষকদের।

পাকুন্দিয়া উপজেলার চৌদ্দশত এলাকার আম বাগান মালিক জসিম উদ্দিন জানান, বিগত বছরগুলোতে তার বাগানে লক্ষাধিক টাকা ঠিকা দরে আম্রপালি বিক্রি করেছেন। তিনি তিন বছর আগে মাত্র ১০০টি আম্রপালি চারা লাগিয়ে বাগান করেছেন। গত বছর এক লাখ পেয়েছেন আম বিক্রি করে। এবছরও লাখ টাকা হবে বলে ধারণা করছেন তিনি।

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, জেলায় এ বছর আমের উৎপাদন ভালো হবে। কারণ এ বছর আমের মুকুল ধরার সময় প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ এখন পর্যন্ত দেখা দেয়নি। এমনকি তেমন কোনো রোগ-বালাইও হয়নি। তাই এবার আমের বাম্পার ফলনের আশা করা যাচ্ছে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং সময় মতো পরিচর্যা হলে চলতি মৌসুমে কৃষকরা আমের আশা অনুরূপ ফলন পাবে। অন্যান্য বছরের তুলনায় বাড়তি সতর্কতাও আছে আমাদের। যদি প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হয় তাহলে কৃষকরা বাম্পার ফলন পাবেন বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, আম চাষে সহজেই লাভবান হওয়া যায়। যার কারণে অনেকই এ পেশায় এগিয়ে আসছেন। বর্তমানে জেলাতে আবাদি জমিতে আমের চাষ (বাগান) করা হচ্ছে। আমের ভাল ফলন পেতে আমরা কৃষকদের বিভিন্ন সময়ে পরামর্শ দিচ্ছি। এ জন্য মাঠ পর্যায়ে আমাদের অফিসাররা কাজ করছেন।

এসআইপি/এসএফ